গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, পদ্ম ফুটেছে : মোদি

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৩২ অপরাহ্ন, ০৪ মে ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৯ অপরাহ্ন, ০৪ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছান দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, সর্বত্র পদ্ম ফুটেছে। বিহারের ভোটের ফলের দিনই বলেছিলাম, গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে যায়।”

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে বিজেপি

সোমবার (৪ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক বিষয় এবং এটি গণতন্ত্র ও সংবিধানের জয়। পশ্চিমবঙ্গে ভোটদানের উচ্চ হারকে তিনি ঐতিহাসিক বলেও উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ ভোট গণনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি, সরকার গঠনের সম্ভাবনা

তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাফল্যের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে এবং রাজ্যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। এ সময় তিনি বিজেপির কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে আনন্দবাজারসহ বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী ফলাফলের ধারা স্পষ্ট হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে বিজেপি নেতাকর্মীরা বিজয় উদ্‌যাপনে অংশ নেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন বাঙালি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং স্বপন দাশগুপ্তের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি দীর্ঘদিন রাজ্যের রাজনৈতিক নেতৃত্বে ছিলেন।

ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ১৯৮টি আসনে এবং তৃণমূল কংগ্রেস ৮৯টি আসনে জয় পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি—নারী ভাতা, বেকার সহায়তা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প—এর মাধ্যমে নিজেকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং জনমতের পরিবর্তন নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলে। ফলে এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।