অপারেশন টেবিলে ফেলে উধাও ‘চিকিৎসক’
লালমনিরহাটে অর্ধেক কাটা হাত নিয়ে মৃত্যুঝুঁকিতে রিকশাচালক, ক্লিনিক ঘেরাও
লালমনিরহাট জেলা শহরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় অবস্থিত ‘আয়েশা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ চাঞ্চল্যকর এক চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এক রোগীর হাতের টিউমার অপারেশন করতে গিয়ে মাঝপথে অপারেশন বন্ধ করে ক্লিনিক থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় জনতা ক্লিনিকটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে লালমনিরহাট সদর উপজেলার এক দরিদ্র রিকশাচালককে হাতের টিউমার অপারেশনের জন্য ক্লিনিকটিতে ভর্তি করা হয়। এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. সায়েম নিজেই অপারেশনের দায়িত্ব নেন এবং রোগীর স্বজনদের আশ্বস্ত করেন যে তিনি সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: ব্রিতে নতুন ডিজি যোগদান ঘিরে উত্তেজনা, পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান ও বিক্ষোভ
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুপুর ২টায় রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডা. সায়েম ওটি থেকে বেরিয়ে এসে জানান, টিউমারটি হাতের গুরুত্বপূর্ণ রগের সাথে জড়িয়ে থাকায় অপারেশন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর রোগীকে দ্রুত ঢাকায় রেফার করার পরামর্শ দিয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে ক্লিনিক ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডা. সায়েম আগে থেকেই সব রিপোর্ট দেখে অপারেশনের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। অথচ অপারেশনের মাঝপথে এসে রোগীর হাতের কবজি অর্ধেক কেটে তিনি দায় এড়িয়ে যান। এতে রোগীর জীবন এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং স্থায়ী পঙ্গুত্বের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”
আরও পড়ুন: সোনারগাঁওয়ের রতনের প্রতারণাসহ নানা গুরুতর অভিযোগ
তারা আরও অভিযোগ করেন, একজন এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ হয়েও ডা. সায়েম নিয়মিত সার্জনের ভূমিকায় অপারেশন করে আসছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অপারেশন মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
রোগীর পরিবার জানায়, তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু আর্থিক সংকট তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ক্লিনিকটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক সুমনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. সায়েমের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম এ বিষয়ে বলেন, “কোনো এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞের দ্বারা সার্জারি পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের দাবিতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।





