সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:৩৭ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৫ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব: আটাব নির্বাচন স্থগিত করল এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে এবং আগামীতে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যে যার অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।”

আরও পড়ুন: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার

তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার হবে না। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার অংশগ্রহণেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব।

বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সমতলে ভূমি কমিশন গঠন, জাতীয় কনভেনশনের আয়োজন, গোত্রভিত্তিক পরিচয় প্রদান, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন প্রকল্প ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নামে উচ্ছেদ বন্ধ এবং ঋণ সুবিধা প্রদানের দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ব্যাপক অর্থপাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এই অর্থ পাচার না হলে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান আরও সহজ হতো।”

তিনি জানান, বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে সমাধানযোগ্য বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

দেশের বিদ্যমান সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে যেসব সমস্যা সমাধান হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকারকে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জিব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস