শাহজালাল বিমানবন্দরে ইটিডি পরিচালনা বিষয়ে স্থানীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১১:৫১ অপরাহ্ন, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২:২৮ পূর্বাহ্ন, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (হশআবি) নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ২৫টি নতুন এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) সংযোজন করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এসব আধুনিক যন্ত্র পরিচালনায় এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থানীয় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেবিচকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন: সংসদে আরও চার কমিটি গঠন, সভাপতি পদে নেই বিরোধী দলের কেউ

বেবিচক জানায়, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক NUCTECH TR2000DC মডেলের ২৫টি ইটিডি সংযোজন করা হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য যন্ত্রটির মূল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের (ওইএম) বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এভসেকের নির্বাচিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণে মোট ৪৪ জন এভসেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশ নেন। এতে ইটিডি পরিচালনা, নমুনা সংগ্রহ, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং অপারেশনাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন: দেশে অটোরিকশা ৮০ লাখ, অবৈধ চার্জিংয়ে বছরে রাজস্ব ক্ষতি ৪ হাজার কোটি টাকা

বেবিচক জানিয়েছে, NUCTECH TR2000DC একটি আধুনিক ট্রেস ডিটেকশন প্রযুক্তি, যা অতি সামান্য পরিমাণে অবশিষ্ট থাকা বিস্ফোরক ও অবৈধ মাদকজাতীয় পদার্থ শনাক্ত করতে সক্ষম। যন্ত্রটি আয়ন মোবিলিটি স্পেকট্রোমেট্রি (আইএমএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং এতে অ-তেজস্ক্রিয় আয়নীকরণ উৎস রয়েছে।

এর ফলে যাত্রীদের ব্যাগেজ, কার্গো এবং বিভিন্ন পৃষ্ঠে থাকা অতি ক্ষুদ্র মাত্রার সন্দেহজনক পদার্থ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশির কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিত করতেও প্রযুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বেবিচকের মতে, আধুনিক ইটিডি প্রযুক্তির সংযোজন প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের বহুতল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত জনবলের যথাযথ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানায় বেবিচক। প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক অনুশীলনের মাধ্যমে কর্মীরা ইটিডির সক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা তল্লাশির নির্ধারিত পদ্ধতি ও মানদণ্ড অনুসরণ করতে পারবেন।

বেবিচক আরও জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক ইটিডি প্রযুক্তির সংযোজন এবং সংশ্লিষ্ট এভসেক জনবলের দক্ষতা উন্নয়ন নভেম্বর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটের প্রেক্ষাপটে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা ও প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।

আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও কার্যকর নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে হশআবির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সংশ্লিষ্ট জনবলের জন্য একই ধরনের প্রশিক্ষণ পর্যায়ক্রমে আয়োজন করা হবে।

এর মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে আধুনিক বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তকরণ প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমন্বিত ও শক্তিশালী বিমানবন্দর নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।

বেবিচক জানিয়েছে, দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।