জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:০৭ অপরাহ্ন, ১১ মার্চ ২০২৪ | আপডেট: ৮:০৭ পূর্বাহ্ন, ১১ মার্চ ২০২৪
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছে নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ।। ‘ধর্ষক ও সহায়তাকারীদের’ সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দাবি মানতে এই আন্দোলন করে।

রোববার (১০ মার্চ) রাতে মঞ্চের সংগঠক অধ্যাপক পারভীন জলী এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন। এর পর সোমবার (১১ মার্চ) সকালে প্রশাসনিক ভবনে ঢোকার সবগুলো গেইটে তালা লাগিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও স্মৃতির প্রেক্ষাপটে স্থাপত্যচিন্তা: কাশেফ চৌধুরীর নতুন মনোগ্রাফ উন্মোচন

আন্দোলনে যুক্ত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ সোহেল বলেন, রোববার সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্য আমাদের কিছু না জানিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে চলে যান। আমরা আর উপাচার্যের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না। উনার গতকালের আচরণ সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।  সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ভবনে ঢোকার গেইটগুলোতে তালা দিয়ে আমরা অবরোধ করছি। পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে আবাসিক হলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে কৌশলে বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, তার পরিচিত মামুনুর রশীদ মামুনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় বিদায় ২০২৫ স্বাগতম ২০২৬, নতুন বছরে পুনর্জাগরণের অঙ্গীকার

পরে ভুক্তভোগীর স্বামী ছয়জনকে আসামি করে ঘটনার রাতেই আশুলিয়া থানায় ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন’ আইনে মামলা করেন।

তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চের ব্যানারে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ধর্ষক ও তার সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা; মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে গণরুম বিলুপ্ত করে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করা এবং র্যাগিং সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা; ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা।

এছাড়া নিপীড়কদের ‘সহায়তাকারী’ প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষের অপরাধ তদন্ত করা এবং তদন্ত চলাকালে প্রশাসনিক পদ থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া; মাদকের সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে, জড়িতদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও রয়েছে আন্দোলনকারীদের।