ওসি প্রত্যাহারসহ ইসিতে একাধিক দাবি

নির্বাচনী মাঠে প্রশাসনের ‘একপেশে ভূমিকা’ নিয়ে জামায়াতের ক্ষোভ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:২৭ অপরাহ্ন, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, নির্বাচনের পরিবেশ ক্রমেই একপেশে হয়ে পড়ছে এবং প্রশাসন সরকারি দল ও বিশেষ একটি গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্র ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার

প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব, বাউফলে ওসি প্রত্যাহারের দাবি

অ্যাডভোকেট জুবায়ের অভিযোগ করেন, পটুয়াখালীর বাউফল আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ চরম পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, বাউফল থানার ওসি প্রকাশ্যভাবে একপেশে আচরণ করছেন এবং বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের অফিসে অভিযান চালাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: দেশ পুনর্গঠনই এখন বিএনপির প্রধান লক্ষ্য: তারেক রহমান

তিনি বলেন, ‘এই ওসি বহাল থাকলে বাউফলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

এ কারণে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

ঢাকা-১৫ ও পাবনায় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

জামায়াত নেতা বলেন, ঢাকা-১৫ আসনে—যেখানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—নিয়মিত সন্ত্রাসী হামলা ও অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে পাবনাতেও।

পাবনায় জেলা আমিরের ওপর হামলা, মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং নারী কর্মীদের ওপর আক্রমণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনার পরও স্থানীয় প্রশাসন ও ইউএনওরা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

নারী ভোটার ও কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ

নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও হেনস্তার অভিযোগ তুলে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, বাউফল, পাবনা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে লক্ষাধিক বোরকা বানানো হচ্ছে—এমন প্রচারণা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব। নারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে তাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘যেখানে মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী, সেখানে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।’

ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট বিতর্ক

সম্প্রতি ১১টি নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, জামায়াতে ইসলামী নারীদের সর্বোচ্চ সম্মানের চোখে দেখে।

তিনি দাবি করেন, জামায়াত আমিরের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল এবং সেটি ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তার ই-মেইল থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটানো হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘এটি মূলত জামায়াতের নারী সমর্থনের জোয়ার দেখে একটি মহলের পরিকল্পিত চক্রান্ত।’

নিরাপত্তা, গাড়ি-পাস ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা দাবি

বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয় নেতাদের চলাচলের জন্য গাড়ি ও পাস ইস্যু এবং সাংবাদিকদের নির্ভয়ে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে বলে জানান অ্যাডভোকেট জুবায়ের।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এসব বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।