১১ দলের নির্বাচনী ঐক্যকে ঐতিহাসিক ঘোষণা নাহিদ ইসলামের
জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ঐক্যে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘এটা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও যাত্রা। এটি যেমন একটি নির্বাচনী সমঝোতা, তেমনি এর রাজনৈতিক গুরুত্বও অত্যন্ত গভীর।’
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতসহ ১১ দলের নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: নারীদের এনজিও ঋণের দায়িত্ব নেবে সরকার: মির্জা ফখরুল
সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, মোট ২৫৩টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে জোটের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০টি আসনে নির্বাচন করবে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দলের জন্য বরাদ্দ আসন নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ আমরা এমন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে সংস্কার, আজাদি, বৈষম্যবিরোধী ও দুর্নীতিবিরোধী শক্তিগুলো একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আরও পড়ুন: যারাই বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের ‘গুপ্ত’ বলবেন: তারেক রহমান
তিনি আরও বলেন, এখন থেকে কোনো প্রার্থী নিজ নিজ দলের পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। সব প্রার্থীই ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অভিন্ন প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ‘আজ থেকে সারা বাংলাদেশের কোনো আসনেই নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না। প্রতিটি প্রার্থীই এই ঐক্যের একক প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন,’—বলেন তিনি।
এই ঐক্যকে গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার বাস্তব রূপ উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমরা যে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি, আসন্ন নির্বাচন সেই পরীক্ষার ক্ষেত্র। এখানে আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ, মহান মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ এবং ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই—সব ঐতিহাসিক সংগ্রামকে ধারণ করেই আমরা এই নির্বাচনী ঐক্যের পথে এগোচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। মুখ্য বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের।
১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।
মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজী, বিডিপির সভাপতি এ কে এম আনোয়ারুল হক, জাগপার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন দলের নেতারা।
তবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।





