হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের পুশইন অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিল বিজিবি
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর পুশইনের একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সীমান্তবাসী। বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত ১২ থেকে ১৫ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হয়ে তাদের আবারও ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯০৬-এর সাব-পিলার ৮এস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বিজিবি সদস্যদের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গাজীপুর মহানগর যুবদলের নেতৃত্বে শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা
সীমান্ত সূত্র ও বিজিবি লালমনিরহাট-১৫ ব্যাটালিয়নের তথ্যমতে, ভারতের কোচবিহার জেলার পাগলীমারী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা একটি গাড়িতে করে ১২ থেকে ১৫ জন নারী-পুরুষকে নিয়ে সীমান্তের কাঁটাতারের গেটের কাছে আসে। পরে তাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হয়।
বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় বিজিবি। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রামবাসী সীমান্ত এলাকায় জড়ো হয়ে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে মানবপ্রাচীর গড়ে তোলেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তিন নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ওই ব্যক্তিদের দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখা বা নো-ম্যানস-ল্যান্ড এলাকায় বসিয়ে রাখা হয়। এ সময় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশি বাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের কারণে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়রা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের ঘটনা বাড়তে থাকায় সীমান্তবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা সীমান্তে আরও কঠোর নজরদারি এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ কামনা করেন।
ঘটনার পর বিজিবি সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করেছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার কিংবা সীমান্ত অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তবাসীদেরও যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা সম্পর্কে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, “হাতীবান্ধা সীমান্তের পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।
সীমান্ত সচেতন মহলের মতে, বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত এই প্রতিরোধ সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপচেষ্টা মোকাবিলায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।





