অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে: টাইম ম্যাগাজিনকে তারেক রহমান

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৯ অপরাহ্ন, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত কেন্দ্রবিন্দু। লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক উপস্থিতি নতুন গতি পেয়েছে। বিমানবন্দরে তাঁকে বরণ করতে উপস্থিত হয়েছিল বিপুলসংখ্যক মানুষ। এর কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটে যায় বড় এক পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঘটনা—বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু, যা দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি করে।

টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান কারাবন্দী জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০৭–০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কারাবন্দী অবস্থায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন, যার প্রভাব আজও তাঁর শরীরে রয়ে গেছে। বিশেষ করে শীতের সময় মেরুদণ্ডের ব্যথা তাঁকে কষ্ট দেয়। তবে তিনি এটিকে দুর্বলতা নয়, বরং দায়িত্বের স্মারক হিসেবে দেখেন।

আরও পড়ুন: যারাই বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের ‘গুপ্ত’ বলবেন: তারেক রহমান

টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপিকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দলটির প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

নিজেকে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কেবল পারিবারিক পরিচয়ের কারণে নয়, বরং দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আস্থার কারণেই তিনি এই অবস্থানে এসেছেন।

আরও পড়ুন: ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস!

২০০১–০৬ মেয়াদে বিএনপির শাসনামলে দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতার সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে টাইম জানায়, তারেক রহমান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি।

সাক্ষাৎকারে দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কথাও উঠে আসে। মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট ও উচ্চ যুব বেকারত্ব বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব মোকাবিলায় পরিকল্পনাভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির কথা জানান তারেক রহমান। তিনি ১২ হাজার মাইল খাল খনন, বছরে ৫ কোটি গাছ রোপণ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের প্রস্তাব দেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ভারতের সঙ্গে বাস্তববাদী সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটকে আগামী সরকারের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মব সহিংসতা, সংখ্যালঘু ও নারীদের ওপর হামলা উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট—‘অপরাধীদের শাস্তি পেতেই হবে।’ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনে তারেক রহমান অন্তর্মুখী মানুষ বলে উল্লেখ করেছে টাইম। লন্ডনে তিনি সময় কাটাতেন বই পড়ে ও হাঁটাহাঁটি করে। দেশে ফিরে নিরাপত্তাবেষ্টিত জীবনে স্বাধীনতার অভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন বলেও জানান তিনি।