১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন: নাহিদ ইসলাম

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ন, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:১১ অপরাহ্ন, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনী জোট গঠন করা হলেও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লড়াই অব্যাহত রয়েছে। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মাধ্যমে এনসিপির মূল লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন করা।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের লা ভিতা হলে এনসিপির ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: যারাই বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের ‘গুপ্ত’ বলবেন: তারেক রহমান

নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি এনসিপির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি এখন জোট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দলের যাত্রাপথ, আদর্শ ও প্রতিশ্রুতিগুলো গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই এনসিপির নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ ঘটেছে। আগস্ট মাসে শহীদ মিনারে তারা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন। গত ১৬ বছরে এবং স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশ প্রকৃত গণতন্ত্রে পৌঁছাতে পারেনি।

আরও পড়ুন: ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস!

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বিগত শাসনামলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো চূড়ান্তভাবে ভেঙে পড়ে এবং জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। সেই বাস্তবতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ রাজপথে নেমে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এই ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে এমন একটি নতুন বন্দোবস্ত প্রয়োজন, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।

তিনি বলেন, নতুন বন্দোবস্ত গণতন্ত্র নিশ্চিত করবে, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাবে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলবে। একইসঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। অন্তর্বর্তী সরকার ও গত দেড় বছরের নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে এনসিপি আজকের অবস্থানে এসেছে।

জোট গঠন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমালোচনার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন বন্দোবস্তের দাবি থেকে এনসিপি সরে আসেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাংবিধানিক সংস্কারের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পুরোপুরি অর্জিত না হলেও বিষয়টি এখন দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংগ্রাম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই সময়ে কিছু সুযোগ হাতছাড়া হলেও সংস্কারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার পাওয়া গেছে, যা নির্বাচনের মাধ্যমে গণভোটের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য একটি নির্বাচনী জোট হলেও সংস্কারের ন্যূনতম বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য এনসিপি আলাদা ইশতেহার দিয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের একটি নতুন প্রজন্ম রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়েছে। এই প্রজন্মকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে সম্পৃক্ত করাই এনসিপির অন্যতম লক্ষ্য। তারুণ্য ও মর্যাদা—এই দুটি বিষয়কে দলটির প্রধান এজেন্ডা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নাগরিকের মানবাধিকার, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই এনসিপির লক্ষ্য। আধিপত্যবাদ বিরোধিতা শুধু স্লোগান নয়, বরং নিজস্ব সক্ষমতা, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।