কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফের মৃত্যু

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, ২৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, ২৬ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তিনটি হত্যা মামলার আসামি ও সাতক্ষীরা জজ কোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে।সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার রাত ৩টার দিকে কারাগারে আব্দুল লতিফ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।তবে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবার। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে একটি ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সময়মতো উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় কারাগারেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।অন্যদিকে জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বন্দি অবস্থায় আব্দুল লতিফকে নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার সার্বিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল না।এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি। এক যৌথ বিবৃতিতে সমিতির নেতারা মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বলেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ আইন অঙ্গনের একজন অভিজ্ঞ ও সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকা থেকে আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেলকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তিনি তিনটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি ছিলেন।আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।