১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
মুখোমুখি অবস্থানের আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
আরও পড়ুন: ভালোবাসার ইতিহাসে ১৪ ফেব্রুয়ারি: সেন্ট ভ্যালেন্টাইন থেকে বিশ্বজুড়ে উদযাপন
রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবিতে আন্দোলন তখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে। ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিকে সামনে রেখে এদিন আন্দোলনকারীদের প্রস্তুতি আরও স্পষ্ট ও সংগঠিত হয়ে ওঠে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রনেতারা একাধিক বৈঠক করেন। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কর্মসূচির রূপরেখা আরও পরিষ্কার করে। ২১ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট, মিছিল ও প্রতিবাদের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রশাসনের সম্ভাব্য বাধা মোকাবিলায় কী কৌশল নেওয়া হবে, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা চলতে থাকে।
আরও পড়ুন: চাপের মুখে প্রশাসন, চূড়ান্ত পর্বের দিকে ভাষা আন্দোলন
শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ অব্যাহত থাকে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভা করে কর্মসূচির পক্ষে সমর্থন জোরদার করা হয়। ছাত্রসমাজের ভেতরে ঐক্যের চিত্র আরও স্পষ্ট হতে থাকে।
এদিকে প্রশাসনের তৎপরতাও বাড়ে। সরকারি মহলে উদ্বেগ বাড়ছিল যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়। সম্ভাব্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল এক ধরনের শেষ সতর্কতার দিন। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়। একদিকে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে অটল ছাত্রসমাজ, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব বজায় রাখতে দৃঢ় প্রশাসন।
ইতিহাসের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল সময়। ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সেই ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়- যেখানে প্রস্তুতি, উদ্বেগ এবং দৃঢ়তার মধ্যে দিয়ে আসন্ন সংঘাতের ছায়া স্পষ্ট হয়ে উঠছিল।





