হালান্ডের গোলে কোভেন্ট্রিকে হারিয়ে শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটি

Sadek Ali
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দারুণ জয়যাত্রা অব্যাহত রেখে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবার নবাগত কোভেন্ট্রি সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন আর্লিং হালান্ড। তবে জয় পেলেও ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শেষদিকে বেশ চাপেই থাকতে হয়েছে স্বাগতিকদের।

এনজো মারেস্কার অধীনে প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন ম্যাচে জয় পেল ম্যানচেস্টার সিটি। তবে শনিবারের পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার তুলনায় বেশ দুর্বল। ম্যাচের শেষ দিকে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার দুটি দুর্দান্ত সেভ না হলে ২৫ বছর পর শীর্ষ স্তরের ফুটবলে ফেরা কোভেন্ট্রি প্রথম পয়েন্ট তুলে নিতে পারত।

আরও পড়ুন: এশিয়া কাপ হকিতে তাইপেকে উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশের মেয়েরা

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি হালান্ডের হেড থেকেই আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। চলতি মৌসুমে তিন ম্যাচে এটি নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের তৃতীয় গোল।

গ্রীষ্মকালীন দলবদলে রেকর্ড ৪৬০ মিলিয়ন পাউন্ড (৬২২ মিলিয়ন ডলার) খরচ করে স্কোয়াডে ব্যাপক পরিবর্তন আনার পর নতুন খেলোয়াড়দের মাঠে নামানোর সুযোগ পান মারেস্কা। পেপ গার্দিওলার অধীনে এক দশকের পর দলের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এনজো ফার্নান্দেজ ও ইলিমান এনদিয়েকে দলে ভিড়িয়েছিল সিটি।

আরও পড়ুন: এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন কক্সবাজারের ফাতেমা

চেলসি থেকে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ফার্নান্দেজকে দলে নেয় সিটি। এই ট্রান্সফার প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ দলবদল ফির রেকর্ডের সমান। শুরুতে তাকে বেঞ্চে রাখার পরিকল্পনা ছিল মারেস্কার। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগে ওয়ার্মআপে নিকো ও'রেইলি চোট পাওয়ায় আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে মূল একাদশে নামাতে হয়।

এনদিয়েকেও অভিষেক করান মারেস্কা। হালান্ড, আন্তোয়ান সেমেনিয়ো ও রায়ান শেরকির সঙ্গে তাকে নিয়ে আক্রমণভাগ সাজানো হয়।

অন্যদিকে, ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরে কোভেন্ট্রি টানা তিন ম্যাচে গোল করতে পারেনি। তবে শনিবার ম্যাচের শুরুতেই গোল পাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের দল।

দোন্নারুম্মার একটি ভুল থেকেই প্রায় গোল পেয়ে যাচ্ছিল কোভেন্ট্রি। ব্যাকপাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়ে বল হারান ইতালিয়ান গোলরক্ষক। পরে নিজের গোললাইন থেকে অল্পের জন্য বল সরিয়ে বিপদমুক্ত করেন তিনি।

এরপর তাইও আওনিই ও জ্যাক রুডোনিও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের ব্যর্থতার পর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে সিটি।

এরপর রায়ান শেরকির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কিছুক্ষণ পর ফার্নান্দেজের পাস থেকেই গোলের সুযোগ তৈরি হয়। ডান দিক দিয়ে দ্রুত উঠে সেমেনিয়োর বাড়ানো ক্রস পেয়ে পেছনের পোস্টে হেড করে বল জালে পাঠান হালান্ড।

বিরতির আগে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন হালান্ড। তবে কোভেন্ট্রির গোলরক্ষক কার্ল রাশওয়ার্থ তা ঠেকিয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়াতে না পারায় শেষদিকে বেশ চাপে পড়ে যায় সিটি। কোভেন্ট্রির হয়ে লুম শাওনা ও এলিস সিমস সমতা ফেরানোর দারুণ দুটি সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু দুইবারই অসাধারণ দক্ষতায় সিটিকে রক্ষা করেন দোন্নারুম্মা।

শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি। ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফেরা কোভেন্ট্রির জন্য হার হলেও পারফরম্যান্সে আশার আলো দেখেছেন কোচ ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। বড় দলের বিপক্ষে তার দল যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, ম্যাচে তারই প্রমাণ মিলেছে।

তবে পরের সপ্তাহে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে খেলতে নামার আগে দলকে আরও উন্নতি করতে হবে বলে জানেন মারেস্কা।

এই জয়ের ফলে আপাতত প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে উঠেছে ম্যানচেস্টার সিটি। রোববার চেলসির বিপক্ষে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের ম্যাচের পর বদলে যেতে পারে পয়েন্ট তালিকার চিত্র।