সারা দেশে তাপপ্রবাহ বিস্তার, চৈত্রের খরতাপে অতিষ্ঠ জনজীবন

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১:১০ অপরাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গত দুই দিনের ধারাবাহিকতায় শনিবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চৈত্র মাসের খরতাপ ও ভ্যাপসা গরমে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগের দিনের তুলনায় আজ তাপপ্রবাহের পরিধি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। শুক্রবার খুলনা ও রাজশাহী বিভাগসহ দেশের ২৭টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ ছিল, যা বৃহস্পতিবার ছিল ১৭ জেলায়।

আরও পড়ুন: এপ্রিলজুড়ে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা, বাড়তে পারে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপ বাড়ছে। এতে নগরজীবনে ভ্যাপসা গরমের প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের তুলনায় আজ তাপপ্রবাহ আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে রোববার ও সোমবার সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে এবং মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাপপ্রবাহ কিছুটা কমাতে পারে।

আরও পড়ুন: সিলেটে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ৯ জেলায় তাপপ্রবাহ

অন্যদিকে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এবার হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এবারে তাপপ্রবাহের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে বৃষ্টিপাতও হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিনে গরম আরও বাড়তে পারে এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বিস্তার লাভ করতে পারে। একই সঙ্গে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

সাম্প্রতিক তাপমাত্রার হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভ্যাপসা গরমের কারণে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়ছে এবং গরমজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর তাপপ্রবাহের মাত্রা ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে—তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু, ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।