ঈশ্বরগঞ্জ ইউএনও অফিসের বারান্দায় কম্বলের আশায় দুস্থদের ভিড়
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি কম্বল পাওয়ার আশায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ের বারান্দায় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে দুস্থ ও অসহায় মানুষদের।
রোববার দুপুরে ইউএনও কার্যালয়ের বারান্দায় ১০ থেকে ১৫ জন বয়োবৃদ্ধ মানুষ কম্বলের আশায় ভিড় করেন। এ সময় অফিসের কর্মচারীরা ‘এখানে কম্বল দেওয়া হয় না’ বলে তাদের চলে যেতে বলেন।
আরও পড়ুন: হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওএসডি
আশাহত হয়ে বাড়ি ফেরার পথে হাজেরা (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা বলেন, “বাবা, অনেক শীত। শীতে খুব কষ্ট করতাছি। ইউএনওর কাছে একটা কম্বলের জন্য আইছিলাম। এত্তক্ষণ বইসা থাকলাম, কিন্তু কম্বলও পাইলাম না, ইউএনওকেও পাইলাম না।”
চরনিখলা গ্রামের সত্তোরোর্ধ্ব আ. মতিন বলেন, “তিন দিন ধইরা একটা কম্বলের লাইগ্যা আইতাছি, কিন্তু কম্বল আর পাইলাম না। আপনারা কি একটা কম্বল লইয়া দিতে পারবেন?”
আরও পড়ুন: আইজিপির বাড়িতেই চুরি: নিরাপত্তার ‘দুর্গে’ নিঃশব্দে ঢুকে তামার তার উধাও
মাইজবাগ ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, “এখন শীতে মানুষ খুব কষ্ট করতেছে, কিন্তু কম্বল বিতরণের কোনো সাড়া-শব্দ নাই। শীতে যদি কম্বল না দেয়, তাইলে গরমে কম্বল দেওয়া কি অইবো?”
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এ বছর তাদের ইউনিয়নে কোনো কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ইউএনও অফিস থেকেই কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. আলাল উদ্দিন বলেন, ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কোটেশনের মাধ্যমে ১ হাজার ১০০টি কম্বল কেনা হয়েছে। কতগুলো কম্বল ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয় বিস্তারিত বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান বলেন, “আমি রাতে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মধ্যে দুই থেকে আড়াইশত কম্বল বিতরণ করেছি। এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”





