বাংলাবাজারে সংবাদ প্রকাশ

শাহজালাল মাজারে খেজুর গাছ কাটার তদন্ত শুরু: কাজ বন্ধের নির্দেশ

Sanchoy Biswas
জুলফিকার তাজুল, সিলেট
প্রকাশিত: ৮:১৯ অপরাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:২৪ অপরাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সিলেটের ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে উন্নয়ন কাজের নামে শতবর্ষী খেজুর গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

খেজুর গাছ কাটা নিয়ে গত ২৮ নভেম্বর দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় ‘উন্নয়নের নামে ঐতিহ্য হত্যা—কাটা পড়েছে শাহজালাল মাজারের খেজুর গাছ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়। এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাটা খেজুর গাছগুলো জব্দের নির্দেশ দেয় এবং অবশিষ্ট গাছ কাটায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে কোটা প্রস্তাবের প্রতিবাদে মানববন্ধন

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর ১টার সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির সদস্যরা হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে গিয়ে কাটা খেজুর গাছের অস্তিত্ব পান। এসময় সংশ্লিষ্টদের তিরস্কার করা হয় এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো গাছ না কাটার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিদর্শনকালে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে শাহজালাল মাজার মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোহাম্মদ হাসান বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে এসে খেজুর গাছ কাটার বিষয়টি তদন্ত করেন। তারা আমাদের কাছে জানতে চান কেন গাছ কাটা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আপিলও খারিজ, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচন করতে পারবেন না


তিনি আরও বলেন, “আমরা তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অবগত না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে কয়েকটি খেজুর গাছ কাটা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল মসজিদের উন্নয়ন। বর্তমান মসজিদ ভেঙে নতুন মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নামাজিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে অস্থায়ীভাবে নিচে একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই কাজের জন্য জায়গা পরিষ্কার করতে গিয়ে মোট ছয়টি খেজুর গাছ কেটে ফেলা হয়।”

মুফতি হাসান দাবি করেন, কাটা গাছগুলো অন্য কোথাও সরানো হয়নি। যেখানে কাটা হয়েছে, সেখানেই সেগুলো রাখা আছে এবং তদন্তে আসা কর্মকর্তারাও তা প্রত্যক্ষ করেছেন।

এদিকে তদন্ত কমিটির সদস্য ও সিলেট ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপপরিচালক আনোয়ারুল কাদির বলেন, “আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে গাছ কাটার প্রমাণ পেয়েছি। কাটা গাছগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জব্দ অবস্থায় রাখতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আজ আমরা শুধু দেখে গেলাম। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। আপাতত জীবিত কোনো গাছ আর কাটা হবে না। এটি মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের জায়গা। সুতরাং এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। যা করা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি।”

এ ব্যাপারে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক সাদিকুর রহমান সাকী বলেন, শাহজালাল (রহ.) মাজার শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানুষের আবেগের অংশ। এমন একটি সংবেদনশীল স্থানে উন্নয়ন কাজের আগে সংশ্লিষ্ট আইন, পরিবেশগত বিধি এবং জনমতের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এটা তারা না করে দাম্ভিকতা দেখিয়েছেন, যা কাম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণের পর এখন সবার নজর প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। এই ঘটনায় দায় নির্ধারণ ও ভবিষ্যতে যেন এমন অনিয়ম আর না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।