নবীনগরের আলোচিত ঝর্ণা বেগম হত্যাকাণ্ডের এক আসামি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বহুল আলোচিত ঝর্ণা বেগম হত্যাকাণ্ড মামলার এক অভিযুক্তকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সময়োপযোগী গোয়েন্দা তৎপরতা ও সক্রিয়ভাবে নজরদারির প্রশংসা করছেন এলাকাবাসী।
র্যাব জানায়, হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ নম্বর আসামি বাবলা ওরফে সম্রাট (২৮)-কে ২৭ জানুয়ারি রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার পুনিয়াউট মোড় বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সুকৌশলে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-৯-এর সিপিসি-১ ইউনিট।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে এপেক্স ক্লাবস অব বাংলাদেশের র্যালি ও শ্রমিকদের মাঝে উপহার বিতরণ
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নবীনগর উপজেলার কাজলিয়া গ্রামের ইয়াকুব আলীর পরিবারের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে বিবাদীদের সঙ্গে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলছিল। গত ১৭ জানুয়ারি দুপুরে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইয়াকুব আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে উপর্যুপরি আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী ঝর্ণা বেগম (৬৫) এগিয়ে এলে আক্রমণকারীরা ঝর্ণা বেগমের মাথা, চোখ, নাক ও মুখে মারাত্মক কাটা জখম করে। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে বিবাদীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়াকুব আলী ও ঝর্ণা বেগমকে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন বিবেচনায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ঢাকায় রেফার করেন। ২১ জানুয়ারি বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝর্ণা বেগমের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: নান্দাইলে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ২০২ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে
ঘটনাটি দেশের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় ২৩ জানুয়ারি ইয়াকুব আলী বাদী হয়ে নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাব তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে।
র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নবীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অপরাধ দমন ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।





