বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের লকারে রাখা গ্রাহকের ২০০ ভরি স্বর্ণ উধাও, তদন্ত শুরু

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৩৮ অপরাহ্ন, ০৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, ২৭ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংক–এর লকারে রাখা এক গ্রাহকের প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মোহাম্মাদ হাচান চৌধুরী এবং মো. আল মামুনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাংকের বাগেরহাট শাখা পরিদর্শন করেন। তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে লকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন। এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) সুমন কুমার দাস নামের এক গ্রাহক ব্যাংকের লকারে রাখা স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়ার অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন: গাজীপুর প্রেসক্লাবের নির্বাচন ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

গ্রাহকের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর বাগেরহাট শাখার লকারে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার সংরক্ষণ করা হয়। পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানের জন্য গত বুধবার তিনি ব্যাংকে গিয়ে লকার খুলে স্বর্ণ নিতে গেলে দেখতে পান সেখানে রাখা স্বর্ণালঙ্কার নেই। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে জানানো হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক সুমন কুমার দাস বলেন, “আত্মীয়স্বজনসহ আমাদের সবার স্বর্ণালঙ্কার সেখানে রাখা ছিল। হঠাৎ করে সবকিছু উধাও হয়ে যাওয়ায় আমরা বড় ধরনের সংকটে পড়েছি। কীভাবে স্বর্ণালঙ্কার খোয়া গেল, তা দ্রুত তদন্ত করে বের করার দাবি জানাচ্ছি।”

আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ে এমপি মান্নানের লিফলেট বিতরণ

এদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মনিরুল আমিন বলেন, “ব্যাংকে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম। লকারে স্বর্ণ রাখার বিষয়ে গ্রাহক কোনো ঘোষণা দেননি। লকারের নির্দিষ্ট অংশের চাবি গ্রাহকের কাছেই থাকে, ব্যাংকের কাছে সেই অংশের চাবি থাকে না। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে মো. শামীম হোসেন বলেন, ব্যাংকের লকার থেকে স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়ার অভিযোগের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত শেষে কে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা স্পষ্ট হবে।

এদিকে এ ঘটনার দুদিন আগে একই ভবনে থাকা নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজ থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেখানকার হিসাবরক্ষক মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার বাগেরহাট সদর মডেল থানা–এ একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।