নরসিংদীতে ৪ সন্তানের জননীকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১

Sadek Ali
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ৫:০৮ পূর্বাহ্ন, ০৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, ০৭ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদীতে কিশোরী আমেনা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার রেশ না কাটতেই আবারও সদর উপজেলার মাধবদীতে চার সন্তানের এক জননী পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

ভুক্তভোগী ওইনারী (৪০) পেশায় একজন গৃহিণী এবং চার সন্তানের জননী। পরে ওইনারী মাধবদী থানায় উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাত ৪ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় হৃদয় নামে এক ধর্ষককে গ্রেফতারও করে পুলিশ। 

আরও পড়ুন: ফেনীর নবাবপুরের ফতেহপুরে ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির ইফতার

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন কাঁঠালিয়া ইউনিয়ের খামারদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন: শ্রীপুরে ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিক নিহত, স্বামী পলাতক

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পূর্বে অর্থাৎ গত ৩/৪ দিন আগে ভুক্তভোগী নারীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাত একব্যক্তির ফোনের মাধ্যমে কথাবার্তা হয় এবং দেখা করতে চায়। পরে ভুক্তভোগী নারী তার সঙ্গে থাকা মেয়েকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইজহাজার পৌর এলাকার একটি মার্কেট থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে কেনাকাটা শেষ করে সঙ্গে থাকা মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ওইদিনই ওইনারী ওইব্যক্তির সাথে দেখা করতে আড়াইহাজার থেকে অটো যোগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন কাঁঠালিয়া ইউনিয়ের খামারদী আওয়াল ডাক্তারের মাছের খামারের আসেন। খামারে পৌচ্ছা মাত্রই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী উৎপেতে থাকা আরও অজ্ঞাত ৩ জন তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে খামারের পাশে অবস্থিত নির্জন স্থানে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। 

এদিকে স্থানীয়রা জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে অজ্ঞাত কয়েকজন ওইনারীকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করলে সে দৌড়ে পাশে থাকা একটি পাওয়ারলুম ফ্যাক্টরিতে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে আড়াইহাজার থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে ওইনারীকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। 

ভুক্তভোগী নারী জানান, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি গত ৩/৪ দিন ধরে বিভিন্ন সময়ে আমার ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন করে উত্তপ্ত করতে থাকে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখা। আমি তাকে বুঝানোর চেষ্টা করলেও সে আমার কথা মানতে নারাজ। পরে তাকে বুঝানোর জন্য আমি উক্ত স্থানে দেখা করতে গেলে সে সহ তার সঙ্গে থাকা আরও ৩ জন আমাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর তারা আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করলে আমি পাওয়ারলুম ফ্যাক্টরিতে গিয়ে আশ্রয় নেই।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এই ঘটনার মূল নায়ক মোবাইল ব্যবহারকারী এবং ধর্ষক হৃদয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ভিকটিমের মেডিকেল করানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকি ৩ জনকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।