নরসিংদীতে গরুর মাংস, ব্রয়লার ও ভোজ্য তেল বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে
ঈদে পরিবার-পরিজনের পছন্দের শপিং শেষে এখন চলছে ঈদের শেষ প্রস্তুতি অর্থাৎ ঈদের দিনে অ্যাপায়ন। আর এই আপ্যায়নে অন্যতম অনুসঙ্গ মাংস ও ভোজ্যতেল। এতে করে বাজারে বেড়েছে মাংস ও ভোজ্যতেলের চাহিদা। পাশাপাশি বেড়েছে দামও। নরসিংদীর বাজারগুলোতে গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে, ছাগলের মাংস ১৩০০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়। আর সোনালী মুরগি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকায়। অপরদিকে বাজারের ছোট-বড় মুদির দোকানগুলোতে ভোজ্য তেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু দোকানে অল্প পরিমাণ তেল থাকলেও বাড়তি দামে কেনার অজুহাতে ক্রেতার কাছ থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারে ৫ থেকে১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে নরসিংদীর বেশকয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ দোকানে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ঈদ উপলক্ষে আগের তুলনায় বেড়েছে মাংসের দাম।
অপরদিকে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস ২২০ টাকা ধরে ক্রেতাদের কিনতে দেখা গেছে। এছাড়া, সোনালী মুরগি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকায়। একসপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় প্রত্যাশা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৮০টি অসচ্ছল পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ
সকল ধরনের মাংসের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম। বাজারের অধিকাংশ মুদি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দোকানিরা ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন বাড়তি মুনাফা। কিছু দোকানে অল্প পরিমাণ তেল থাকলেও বাড়তি দামে কেনার অজুহাতে ক্রেতার কাছ থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারে ৫-১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। অবশ্য কিছু বড় দোাকান গুলোতে নির্ধারিত দামে বিক্রি হলেও বিক্রয়সীমা (লিমিট) বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতে করে মুদি দোকানগুলোতে খোলা তেলের বিক্রি বাড়ছে। কোনো কোনো দোকানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০০- ২১০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংস ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষ্যে খামারিরা গরু ও মুরগির দাম বাড়িয়েছেন, তাতে মাংসের দাম একটু বেশি পড়ছে। অনেকে বলছেন, বেচাকেনা বেশি পরিমাণে না হলে কেজিপ্রতি ৮০০ টাকায় মাংস বিক্রি করেও টিকে থাকা কষ্ট হবে। সেজন্য বেশিরভাগ মাংস বিক্রেতা ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন।
আরও পড়ুন: নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত, ট্রেন সচল হতে সময় লাগবে আরও ৫ ঘণ্টা
অপরদিকে মুদি দোকানিরা বলছেন, কোম্পানি থেকে আগের মতো সরবরাহ না দেওয়ায় তারা পর্যাপ্ত বোতলজাত তেল বিক্রি করতে পারছেন না। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে কোম্পানি থেকেই সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোম্পানি থেকে আগে কমিশন দেওয়া হতো, এখন তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা বোতলের গায়ে নির্ধারিত মূল্যে তেল কিনছেন। ফলে বোতলের গায়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে ক্রেতাদের কাছে একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময় মাংস ও তেলের চাহিদা বেড়ে যায়। এই বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে মাংস ও তেলের দাম দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে। সপ্তাহ ব্যবধানে বাজারে প্রতিদিনই কোনো না কোনো সময়ে মাংস ও তেলের দাম বেড়েছে। ঈদকে সামনে রেখে প্রশাসন যদি আরও বেশি সক্রিয় ও বাড়তি তদারকিতে করতো তাহলে ক্রেতাদের বেশি দামে মাংস ও তেল কিনতে হতো না।





