প্রতিমন্ত্রীর সাথে ইফতারে বিএনপি কর্মী হত্যার আসামি নিয়ে ক্ষোভ
রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার বিএনপি নেতা হত্যার মামলার আসামিকে প্রতিমন্ত্রীর ইফতার মাহফিলের অতিথি হিসেবে উপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে—দলের এক নেতার হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এজাহারভুক্ত আসামি কীভাবে একই দলের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হলেন।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড (খিলক্ষেত থানা) পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যুব বিষয়ক সম্পাদক কাউসার দেওয়ানকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন: কারও আধিপত্য মেনে নেবে না বাংলাদেশ: জামায়াত আমির
মামলার এজাহারে একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেই তালিকায় সাইফুল ইসলাম ভূইয়র নামও রয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি ইফতার মাহফিলে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এবং যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেখানে অতিথিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম ভূইয়ার উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে তাকে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়, যা নিয়ে এলাকায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: দিনাজপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে একজন দলীয় নেতা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কীভাবে একই দলের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন? বাড্ডা ভাটারা ও খিলখেত এলাকার অনেক নেতাকর্মীই সাইফুল ইসলামের ডিগবাজিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ আছে, অতীতে ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ওই ব্যবসায়ী পরিবারের ব্যাপক ঘনিষ্ঠতা ছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা নতুন করে ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। থানা আওয়ামী লীগের কমিটিতে নজরুল ইসলাম ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক পদে আছেন।
গত বছর তথা ২০২৫ সালে স্থানীয় বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, আনোয়ার হোসেন দেওয়ান, জামাই আনোয়ার, জিহাদ, শাহীন ভুঁইয়া, জাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া, সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়াসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো অজ্ঞাতনামা ৩০ জনকে আসামি করা হয়। ওই সময় মামলার দুই নম্বর আসামি আনোয়ার হোসেন দেওয়ানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করতে পারিনি পুলিশ।





