বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ উপনির্বাচন ৯ এপ্রিল: কঠোর নিরাপত্তায় ভোট, ত্রিমুখী-বহুমুখী লড়াই
বগুড়া-৬ উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন আজ (৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নজরদারি এবং বহুমাত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন দুটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য হয় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান নির্বাচিত হওয়ার পর পদত্যাগ করলে। অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট স্থগিত হয়ে পুনঃতফসিল অনুযায়ী আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান এবং বিডিপির মো. আল-আমিন তালুকদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাজাশনে বিদ্যুতের লাইনে আগুন, পুড়ে ছাই মুদি দোকানসহ ২ ফার্মেসি
অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনে বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর মো. মিজানুর রহমানসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে লড়াই কিছুটা বহুমুখী হলেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই প্রধান হয়ে উঠেছে।
বগুড়া-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪,৫০,৩০৯ জন, ভোটকেন্দ্র ১৫০টি এবং ভোটকক্ষ ৮৩৫টি। শেরপুর-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪,০৯,৮০৬ জন, কেন্দ্র ১২৮টি এবং ভোটকক্ষ ৭৫১টি। দুই আসনে মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
আরও পড়ুন: রোগীর সাথে চিকিৎসকের অশালীন আচরণ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের প্রতিবাদ
প্রথমবারের মতো আইটি-নির্ভর পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসী ভোট চালু হলেও তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। নিবন্ধিত ১,৬৬৪ জন প্রবাসী ভোটারের মধ্যে মাত্র ২৮ জন ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী ভোটিং পদ্ধতির কার্যকারিতা এখনো প্রশ্নের মুখে রয়ে গেছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বগুড়া-৬ আসনে ২৫০ জন সেনাসদস্য, ৮ প্লাটুন বিজিবি, ১০টি র্যাব টিম, ১,৩২৭ পুলিশ এবং ১,৯৯০ আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে ১৪০ জন সেনাসদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, ১৪টি র্যাব টিম, ১,১৫৫ পুলিশ এবং ১,৭০৪ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ১৮ থেকে ২০ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
নির্বাচন উপলক্ষে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচল তিন দিন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ভোটের দিন প্রাইভেট কারসহ অধিকাংশ যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। শুধুমাত্র অনুমোদিত যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন বিএনপির জন্য সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখার পরীক্ষা, অন্যদিকে জামায়াতের জন্য নতুন ভোটার আকৃষ্ট করার সুযোগ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ম্যাজিস্ট্রেট, পর্যবেক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং কোনো অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের এই নির্বাচন শুধু দুইটি আসনের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ নয়—বরং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, দলীয় শক্তি এবং ভোটার আচরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





