হেমায়েতপুরে সড়ক-ফুটপাত দখল: নিত্যদিনের যানজট, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

Sanchoy Biswas
মো. রফিকুল ইসলাম জিলু, সাভার থেকে
প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ন, ০২ মে ২০২৬ | আপডেট: ৭:০৯ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সাভারের শিল্পাঞ্চলখ্যাত হেমায়েতপুর এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে হকার বসায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী ও যাত্রীসাধারণ। ব্যস্ত এই অঞ্চলের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বাজারসংলগ্ন প্রায় সব সড়ক ও ফুটপাত এখন কার্যত হকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ফলে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তা টেকসই না হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে ফুটপাত।

আরও পড়ুন: থামছে না পুশ-ইন চাপ, অনিশ্চয়তার শেষ কোথায়?

এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, অফিসে যেতে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে সড়কে নামতে হয়, এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন গৃহিণী রাশিদা বেগম। তাঁর ভাষায়, শিশুদের নিয়ে বাজারে বের হওয়াই এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থায়ী দোকানদারদের মধ্যেও বাড়ছে অসন্তোষ। ব্যবসায়ী মো. সোহেল রানা বলেন, নিয়ম মেনে ভাড়া ও কর পরিশোধ করেও তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে হিমশিম খাচ্ছেন, কারণ ফুটপাত দখল করে বসা হকারদের কারণে ক্রেতা কমে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহীর আমের তুলনা নেই: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুটপাতজুড়ে পোশাক, ফলমূল, সবজি, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও খাবারের দোকান বসানো হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের অর্ধেক অংশও দখল হয়ে থাকায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পরিবহন চালকরাও পড়ছেন বিপাকে। সাভার পরিবহনের চালক হাফিজ উদ্দিন বলেন, এ সড়কে বাস চালানো এখন অত্যন্ত কঠিন। সামনে হকার, পাশে যানবাহন- চলার মতো জায়গা থাকে না। এ নিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হচ্ছে।

তবে হকারদের দাবি, জীবিকার তাগিদেই তারা ফুটপাতে বসতে বাধ্য হচ্ছেন। হকার আলমগীর হোসেন বলেন, বড় দোকান করার সামর্থ্য না থাকায় ফুটপাতই তাদের একমাত্র ভরসা। বিকল্প ব্যবস্থা করা হলে তারা সেখানেই যেতে রাজি। একই কথা জানান রোকেয়া বেগমও। তাঁর মতে, উচ্ছেদ অভিযানে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান না থাকায় আবার ফিরে আসতে হয়।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। খুব শিগগিরই সাভারের সব বাসস্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো হকারমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে হকারদের পুনর্বাসন একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এজন্য নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের বসানোর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পনার চেয়ে এখন বেশি জরুরি কার্যকর বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকি। তারা মনে করেন, প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং ধারাবাহিক নজরদারি থাকলে সমস্যাটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর পরিকল্পনার ঘাটতি ও বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাব- এই দুই কারণে ফুটপাত দখলের সমস্যা জটিল আকার নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট হকার জোন তৈরি এবং কঠোর আইন প্রয়োগ- দুটি বিষয় একসঙ্গে বাস্তবায়ন জরুরি।

সব মিলিয়ে, হেমায়েতপুরে সড়ক ও ফুটপাত দখল এখন শুধু যানজটের কারণ নয়, বরং জনজীবনের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ, অন্যদিকে হকারদের জীবিকার প্রশ্ন- এই দুইয়ের সমন্বিত সমাধানেই মিলতে পারে স্থায়ী পথ।