নরসিংদীতে শ্রমিক সংকটে ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা

Sadek Ali
আশিকুর রহমান, নরসিংদী
প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ন, ০৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ৪:০৫ অপরাহ্ন, ০৭ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দিগন্তজোড়া সোনালি ধানের মাঠ, অথচ কৃষকের মুখে নেই স্বস্তি। চলতি বোরো মৌসুমে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পাকা ধান ঘরে তোলার সময়ে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টি দেখা দিয়েছে। আর সেই সাথে যোগ হয়েছে শ্রমিক সংকট। আর এসব কারণে নরসিংদী, পলাশ, শিবপুর, মনোহরদী ও রায়পুরা উপজেলার কৃষকরা তাদের পাকা ধান ঘরে তুলতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দিন যত যাচ্ছে ক্রমশই এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে।

সরজমিনে কয়েকটি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, চলতি মৌসুমের শেষ দিকে আকাশে মেঘের আনাগোনা ও বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক ধান কাঁটতে দেরি করছেন। আবার কোথাও পাকা ধানের জমি হঠাৎ বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে চাষীরা। ফলে মাঠে পাকা ধান রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা। সেই সাথে যোগ হয়েছে শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধি। তাই পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অতি বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে বিভিন্ন স্থানে জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়া ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরির আশংকায় অনেক চাষী বাধ্য হয়ে চড়া দামে শ্রমিক নিচ্ছেন। আবার কেওবা পরিবার নিয়ে ধান কাটতে নেমে পড়েছেন। অধিকাংশ কৃষক শ্রমিকের আশায় বসে না থেকে গৃহিণীসহ স্বজনরা মিলে মিশে সবাই ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আরও পড়ুন: মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন কৌশিক রহমান

শিবপুরের আক্রাশাল গ্রামের কৃষক মাহবুব মিয়া বলেন, এবার আমার ৩ কানি জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি। ফলন ভালো হলেও একদিকে ঝড়-তুফান অন্যদিকে বৃষ্টির ফলে পাকা ধান হাঁটু পানির নিচে। ধান কাঁটার শ্রমিক না পেয়ে বাড়ির ছেলে-মেয়ে-বউ নিয়ে ধান কাঁটতে নেমে পরেছি। দুই-একজন শ্রমিক পেলেও তিনবেলা খাবার খাইয়ি ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা রোজ দিতে হয়। আমাদের মত গরীব কৃষকদের পক্ষে এত টাকা দিয়ে শ্রমিক নেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আর কৃষি যন্ত্র পাওয়া তো এখন ভাগ্যের ব্যাপার। 

আরেক কৃষক শহিদ মিয়া বলেন, ধানই কাটবো না শ্রমিকই যোগাড় করবো। অতিবৃষ্টির কারণে ধানের ক্ষেত পানির নিচে। জনপ্রতি শ্রমিক রোজ ১২০০ থেকে ১৪০০ টাাকায় কাজ করছে। শ্রমিকের বিকল্প হিসেবে কৃষি যন্ত্র দিয়ে ধান কাঁটতে চাইলে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে দ্বিগুণ টাকা গুনতে হয়। তা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। 

আরও পড়ুন: সিংড়ায় ট্রাকচাপায় ছাগল ব্যবসায়ী নিহত, আহত ৩

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় হারভেস্টার মেশিন বিতরণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে ধান কাটার কাজ সহজ করার প্রচেষ্টা চলছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসের কৃষি তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদী জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৬৮ হাজার ১২৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এবার  লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে এবং সিংহভাগ জমিতে উফশী জাতের ধান আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের ধানও আবাদ হয়েছে। তাই এ বছর ৩ লাখ ৩২ হাজার ২১৪ টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান।