কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই কোনো এইচএসসি পরীক্ষার্থী
কুমিল্লা এইচএসসি পরীক্ষায় যেসব কলেজ থেকে একজনও পরীক্ষার্থী নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। খুব শিগগিরই এসব কলেজ কর্তৃপক্ষকে ডেকে কারণ জানা হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
২ জুন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের প্রতি এ নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে ৮টি কলেজ থেকে একজনও পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে না। এর মধ্যে ৪টি কলেজ থেকে রেজিস্ট্রেশনই করেনি কেউ। বাকি ৪টি কলেজ থেকে রেজিস্ট্রেশন করলেও ৩৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ফাইনালের জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
শূন্য পরীক্ষার্থীর ৮টি কলেজের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৪টি, কুমিল্লায় ৩টি এবং ফেনীতে ১টি। কলেজগুলো হলো: ফেনীর নোবেল কলেজ, কুমিল্লার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, সিসিএন মডেল কলেজ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল এন্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ ও উলুকান্দি কলেজ।
আরও পড়ুন: নওগাঁ সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের
এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৫ হাজার ৭০২ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছে। এর মধ্যে ছাত্র ৩৭ হাজার ৬০৬ জন, ছাত্রী ৫৭ হাজার ১৯৬ জন। গত ১৪ জুন সরকারি সময়ে রেজিস্ট্রেশন শেষ হয়।
কুমিল্লা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা আটটি প্রতিষ্ঠান পেয়েছি যাদের স্বীকৃতি ছিল কিন্তু কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নিতে পারছে না। গত বছর শূন্য থেকে ৫ শতাংশ পাশের হারে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছিল। এবছরও মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার বেশি। ছেলেদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, কেন এসব কলেজ থেকে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারল না, তা বিস্তারিত খতিয়ে দেখব। প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন নাকি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পর্যালোচনা করা হবে।
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর আনোয়ার পারভেজ বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ফলাফল খারাপ হবে বা শিক্ষার্থী থাকবে না, তাদের বিরুদ্ধে সরকার নীতিমালা করে ব্যবস্থা নিলে আমরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেব। এতে মানহীন প্রতিষ্ঠান কমবে, শিক্ষার্থীরাও প্রতারণার শিকার হবে না।





