কলেজ ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মৃতদেহ, বিক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাসে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা ওই ছাত্রাবাসে ভাঙচুর চালিয়েছে।
মেহেদী হাসান (১৫) নামে ওই শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে—এমন দাবি করে মঙ্গলবার (১৬ জুন) গভীর রাতে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন এ হামলা চালায়।
আরও পড়ুন: কোটচাঁদপুরে প্রেসক্লাবের দুই প্রয়াত সাংবাদিকের স্মরণে দোয়া ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত
পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের জিয়াউদ্দিন জিয়ার ছেলে। মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রাবাস থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: কুবিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রদলের স্মারকলিপি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অবস্থান রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উদয়পুর গ্রামে। এটি রামগঞ্জ ও নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সীমানায় অবস্থিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মেহেদীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবার অভিযোগ করলে রাত ৮টার পর থেকে একাডেমির সামনে লোকজন জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটক ও অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করে এবং ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। খবর পেয়ে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাইক হাতে উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাইকে বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। তারা তদন্ত করে ঘটনার মূল কারণ উদ্ঘাটন করবে। সে পর্যন্ত সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ একাডেমির আবাসিক হোস্টেলের ৬ তলার ৬১৪ নম্বর কক্ষের বারান্দার গ্রিলে মাফলার পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে মেহেদী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উশৃঙ্খল লোকজন একাডেমির গেট ভেঙে ফেলে এবং একাডেমির অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করে। পরবর্তীতে লক্ষ্মীপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।





