চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:১৪ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১:৩৩ পূর্বাহ্ন, ২৯ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, এই সফর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: যুবদল নেতা ওয়ারেস উদ্দিন ফরাসের জানাজায় কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ৮টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে মোংলা বন্দর এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতায় সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনায়ও দুই দেশ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কুনমিং থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী আটক

ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরও অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির বাস্তবায়নে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

তিনি জানান, মালয়েশিয়া সফরকালে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বিষয়ে দুটি নোট অব ভার্বাল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের লক্ষ্যে কাজ করার বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের নীতিগত বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে কাজ করবে।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় চীন দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। একই সঙ্গে ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা কাঠামোয় বাংলাদেশের সদস্যপদের বিষয়েও চীন সমর্থন দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।