কাপাসিয়ায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ
গ্রামীণ অবকাঠামো গম প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থে নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ওই রাস্তার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭.৬৩৬ মেট্রিক টন গম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ঘাগটিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের মনিরের বাড়ি হতে মাসুদের বাড়ি পর্যন্ত ৩৫০ ফুট ইট সলিংয়ের রাস্তায় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মারফত মেম্বারের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: ফেনী চেম্বার নির্বাচনে বিজয়ী সাব্বির-জুয়েলকে সংবর্ধনা
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই রাস্তায় ব্যবহৃত ইটগুলোর বেশির ভাগই প্রকৃতপক্ষে নিম্নমানের। যা সাধারণ ভ্যানের চাকার চাপেই ভেঙে যাচ্ছে। স্থানীয়দের বাধা উপেক্ষা করে ওই রাস্তার সলিংয়ের কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, এত নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা করার চেয়ে না করাই উত্তম ছিল। এ রাস্তা কিছুতেই ছয় মাসের বেশি টিকবে না। কাদা-পানিতে কোনোরকমে দায়সারা ভাবে সলিং নির্মাণ করছেন মিস্ত্রিরা।
আরও পড়ুন: যত্রতত্র ময়লা না ফেলার প্রতিজ্ঞা সবার হওয়া উচিত: সিডিএ চেয়ারম্যান
ইটের মান সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান মিস্ত্রি জানান, এটা দুই নম্বর ইট হলেও মান একেবারে খারাপ না। ইদানীং আমরা যেসব রাস্তা নির্মাণ করেছি, তার সবগুলোতেই এ ধরনের ইট দিয়েই কাজ করেছি। দুই নম্বর ইট কেন ব্যবহার করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমাদের দেখার বিষয় না। ঠিকাদার যে ধরনের ইট দেবেন, আমরা তা দিয়েই কাজ করে দেব।
ওই রাস্তার প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য মো. মারফত বলেন, "আমি নিজে ইটভাটা থেকে সবচেয়ে ভালো ইট দেখে এনে রাস্তা করছি। যারা বলছে দুই নম্বর ইট, তাদেরকে বলেন সামনে আসতে।"
এ বিষয়ে ঘাগটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান লুৎফুর নাহার মুঠোফোনে জানান, দুই নম্বর ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে, এটা আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।
এ প্রসঙ্গে কাপাসিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছবি এবং ভিডিও দেখে নিম্নমানের ইট মনে হচ্ছে। প্রকল্প কমিটির সভাপতি মারফত মেম্বারকে কাজ বন্ধ রাখতে মোবাইল ফোনে বলা হয়েছে। সরেজমিনে কাজের মান দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের প্রকৌশলী মো. ফারুক রেজা বলেন, অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার সরেজমিনে রাস্তাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। ছবি এবং ভিডিওতে যে নিম্নমানের ইট ছিল, তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া বরাদ্দ অনুযায়ী রাস্তার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সঠিক আছে।





