মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবি

Any Akter
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ন, ০৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৮ অপরাহ্ন, ০৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতা সোহেল রানা সোহরাবের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রায়েদ বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রায়েদ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাদিউল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, রায়েদ বাজার কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান সরদার, রায়েদ ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য বাদল চৌধুরী, ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি সোহেল রানা সোহরাব এবং রায়েদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলম সিকদার।

আরও পড়ুন: কুমিল্লা ও চাঁদপুরে আনসার-ভিডিপির কার্যক্রম পরিদর্শন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২ জুলাই সন্ধ্যায় রায়েদ বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি যুবদল নেতা সোহেল রানা সোহরাবের ওপর হামলা চালান। তাদের দাবি, অভিযুক্ত মিলন, ড্রাইভার আল আমিন, মেকার রুহুল আমিন ও পারভেজ সংঘবদ্ধভাবে সোহেল রানা সোহরাবকে মারধর করেন।

৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, "রায়েদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।"

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অসহায়দের মাঝে চাল বিতরণ করলেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান

৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাদিউল ইসলাম বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু যারা মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক।"

৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, "অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি পাবে।"

রায়েদ বাজার কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান সরদার বলেন, "রায়েদ বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।"

রায়েদ ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য বাদল চৌধুরী বলেন, "একজন জনপ্রিয় যুবনেতার ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"

আহত যুবদল নেতা সোহেল রানা সোহরাব বলেন, "আমি মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলাম। এর জের ধরেই আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় আমি গুরুতর আহত হয়েছি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।"

রায়েদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলম সিকদার বলেন, "এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় যুবসমাজ আরও বিপথগামী হবে।"

বক্তাদের ভাষ্যমতে, হামলার একপর্যায়ে সোহেল রানা সোহরাব গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন, যেখানে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে রায়েদ ইউনিয়নে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।