পায়রাকুঞ্জ-মির্জাগঞ্জ নৌপথে চালু হলো BIWTA'র ট্রলার সার্ভিস, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের আশা

Sanchoy Biswas
অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৫৬ অপরাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৯:০৮ অপরাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ঘাট থেকে নদী পেরিয়ে মির্জাগঞ্জ যাতায়াতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে চালু করা হয়েছে নতুন ট্রলার পারাপার সার্ভিস। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ট্রলার ঘাটের উদ্বোধন করা হয়।

প্রতিদিন প্রয়োজনীয় কাজ, চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে অসংখ্য মানুষকে এই নৌপথে যাতায়াত করতে হয়। তবে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত নৌযান না থাকায় এতদিন যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের জন্য নদী পারাপার ছিল চরম কষ্টকর। নতুন এ উদ্যোগের ফলে দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি সময় ও শ্রম সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা, ৮ জন গ্রেপ্তার

আরও জানানো হয়, পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ট্রলার ঘাট থেকে মির্জাগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত এ সার্ভিস পরিচালিত হবে। বিআইডব্লিউটিএর নিয়ম অনুযায়ী এ রুটে প্রাথমিকভাবে চারটি সনদপ্রাপ্ত ও রুট পারমিটধারী বোট চলাচল করবে। পায়রাকুঞ্জ প্রান্তে মোহাম্মদ রাহাত এবং মির্জাগঞ্জ প্রান্তে শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ইজারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পরপর ট্রলার চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ভাড়ায় এই সেবা পরিচালিত হবে। সেই সঙ্গে যাত্রীদের সুরক্ষায় প্রতিটি বোটে লাইফ জ্যাকেট, বয়া, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে নিহত শ্রমিকের স্মরণে এনসিপির গায়েবানা জানাজা, ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ

ইজারাদার মোহাম্মদ রাহাত বলেন, "এটি কোনো দলীয় উদ্যোগ নয়, এলাকার মানুষের সেবার উদ্দেশ্যেই বিআইডব্লিউটিএর আওতায় নিয়ম মেনে ঘাটের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

নতুন এই সার্ভিসকে স্বাগত জানিয়ে ইটবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী শাহ আলম জানান, সরকারি নিয়ম মেনে সেবা পরিচালিত হলে এলাকার সাধারণ মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে নদী পারাপার হতে পারবেন।

স্থানীয়দের মতে, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর রাখা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম সুনিশ্চিত করা গেলে এই সার্ভিসটি দুই পাড়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে।