অস্ত্র, গুলিসহ নগদ ১২ লাখ টাকা উদ্ধার

উত্তরায় ফিলিং স্টেশনের টাকা ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতার ৫

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২:৪০ অপরাহ্ন, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়লব্ধ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও উত্তরা ক্রাইম বিভাগের যৌথ আভিযানিক দল। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ৬টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, লুণ্ঠিত নগদ ১২ লাখ টাকা, র্যা বের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বর প্লেট, একটি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো ১। মো. ইলিয়াস শিকদার (৩৬), ২। জাফর (৩৬), ৩। মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), ৪। মিন্টু রাড়ী (২৩) ও ৫। সাগর বাড়ৈ (৪০)।

আরও পড়ুন: ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা

গত ৯ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০:৩০টার সময় উত্তরা পূর্ব থানাধীন ডিএল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল করিম সহ চারজন ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ক্রাউন প্লাজার নিকট বিআরটি লেনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা একদল ডাকাত তাদের গতিরোধ করে। অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে ও আঘাত করে তাদের কাছ থেকে টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ডিবি ও উত্তরা ক্রাইম বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস শিকদার ও জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইলিয়াস শিকদারের বন্দর থানা এলাকার ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে র্যা ব লেখা ৩টি ভেস্ট ও ২টি ক্যাপ, ২টি নম্বর প্লেট, র্যা বের মনোগ্রামযুক্ত ৪টি ভুয়া পরিচয়পত্র, ৩টি ওয়াকিটকি সেট, ৪ জোড়া হাতকড়া, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন ও ৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়। 

আরও পড়ুন: ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে ডিএসসিসির মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসব

পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাতুয়াইল এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল ও যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকা থেকে মিন্টু রাড়ীকে গ্রেফতার করা হয়।

এসময় রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেলের ভাড়া বাসা থেকে ডাকাতির লুণ্ঠিত টাকার মধ্যে নগদ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয় এবং মিন্টু রাড়ীর ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে র্যা ব লেখা ৪টি ভেস্ট, স্টিলের ২টি ও অফসেট পেপারের ৪টি নম্বর প্লেট, র্যা বের মনোগ্রামযুক্ত ৪টি ভুয়া পরিচয়পত্র, ওয়াকিটকি সেট ও চার্জার, ৩ জোড়া হাতকড়া, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়। 

পরবর্তীতে রবিউল ও মিন্টুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শ্যামপুর থানাধীন পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাগর বাড়ৈকে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ডাকাতির লুণ্ঠিত নগদ ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। 

প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃতদের ডাকাতির ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।