৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪১ পূর্বাহ্ন, ০১ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথম ধাপে ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উচ্চ খেলাপি ঋণ, দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে যাচ্ছে।

অন্যদিকে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কম্পানি (বিআইএফসি) আর্থিক সূচক উন্নয়নের জন্য ৩ থেকে ৬ মাস সময় পেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে তাদেরও অবসায়নের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন: সবজির বাজারে আবার অস্থিরতা, কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের মে মাসে উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী মূল্যায়নের পর দেখা গেছে, ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক নয়। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: আগস্ট মাসের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখল সরকার

শুনানির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মপরিকল্পনা ও যুক্তি উপস্থাপন করে। তার ভিত্তিতে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ থেকে ৬ মাস সময় দিয়ে আর্থিক সূচক উন্নয়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণে এই ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাবেক এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি চারটি এনবিএফআই থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, বন্ধের পথে থাকা ৯টি এনবিএফআই-এর ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বা রমজানের আগে তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। সম্পদ মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ পাবেন কি না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার মৌখিকভাবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে, যা দিয়ে আমানতকারীরা শুধুমাত্র তাদের মূল অর্থ ফেরত পাবেন, কোনো সুদ দেওয়া হবে না।