বন্যার ধাক্কায় রাজধানীর কাঁচাবাজারে মূল্যঝড়, কাঁচামরিচ ২৪০ টাকা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩০ অপরাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রভাব এবার স্পষ্ট রাজধানীর কাঁচাবাজারে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় পৌঁছেছে। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাছ ও ব্রয়লার মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করলেও ভোক্তাদের অভিযোগ, দুর্বল বাজার তদারকির সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শেওড়াপাড়া, মালিবাগ, খিলগাঁও, রামপুরা, নতুন বাজার, মুগদা ও মিরপুরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেখা যায়, বন্যা ও টানা বর্ষণের অজুহাতে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের দাম বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে কাঁচামরিচের বাজারে। গত সপ্তাহেও যেখানে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমল স্বর্ণের দাম, কমেছে রুপার মূল্যও

সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। পটল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। করলার দাম বেড়ে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৯০ থেকে ১০০ টাকা এবং কাঁচা পেঁপে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে আলু ৩০ টাকা, কচুমুখী ৬০ টাকা এবং টমেটো ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

মসলাজাতীয় পণ্যের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। দেশি আদা ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, দেশি রসুন ২২০ থেকে ২৪০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ অধিকাংশ মুদি পণ্যের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন: আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

মাছের বাজারেও বেড়েছে দাম। রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, নদ-নদীতে মাছ ধরা কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। ফলে পাইকারি পর্যায় থেকেই দাম বেশি।

মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে আগের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি ও লেয়ার মুরগি প্রায় ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, বৃষ্টি শুরু হলেই বাজারে যেন অলিখিতভাবে দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। উৎপাদন খরচ বা সরবরাহের বাস্তব চিত্র যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত বাড়তি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাকেই। তাদের অভিযোগ, কার্যকর বাজার তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন।

অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত অঞ্চল থেকে সবজি ও কৃষিপণ্য ঢাকায় আনতে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহও কমেছে। এর প্রভাব সরাসরি রাজধানীর খুচরা বাজারে পড়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষিপণ্যের দামে সাময়িক চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক হলেও বাজার ব্যবস্থাপনা দুর্বল হলে সেই চাপ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে রূপ নেয়। তারা মনে করেন, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো এবং মজুতদারি ও কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে।

রাজধানীর বাজার পরিস্থিতি বলছে, বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব এখন শুধু কৃষিক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; এর সরাসরি অভিঘাত পড়ছে নগরজীবনের দৈনন্দিন ব্যয়ে। দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে এবং কার্যকর বাজার তদারকি নিশ্চিত না করা গেলে আগামী দিনগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।