ঢাবিতে ‘কালো দিবস’ পালিত

Sanchoy Biswas
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনাবলির স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কালো দিবস’ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার (২৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। পাশাপাশি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কলা অনুষদের সাবেক ডিন ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকারসহ শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন: ‘ক্ষমতার দাপট নয়, সহমর্মিতার রাজনীতি চাই’

সভায় উপাচার্য বলেন, ২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের একটি ‘বিভীষিকাময় অধ্যায়’। ওই সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের ওপর যে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, তা কখনো ভুলে যাওয়ার নয়।

তিনি বলেন, ২০ আগস্টের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়কে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তার স্মৃতি এখনো স্পষ্ট। সে সময় শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে থাকা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তারাও বিভিন্নভাবে হয়রানি ও চাপের মুখে পড়েছিলেন।

আরও পড়ুন: সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতায় মানসিক চাপ কমে: ঢাবি উপাচার্য

অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিকভাবেই অন্যায়, নিপীড়ন ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এসেছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সোচ্চার ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উপাচার্য জানান, ২০০৯ সালের সিনেট অধিবেশনে ২৩ আগস্টকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর মতে, দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য শুধু অতীতের ঘটনা স্মরণ করা নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়, নিপীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার শিক্ষা দেওয়াও এর লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কোনো অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কিংবা ক্ষমতার দাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

২০০৭ সালের ঘটনায় কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের স্মরণ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সদরুল আমিনসহ প্রতিবাদী শিক্ষকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁদের দৃঢ়তা ও নীতির প্রতি অবিচল অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় বক্তারা ২০০৭ সালের ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, হলগুলোর প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অ্যালামনাইরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২০ থেকে ২৩ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ওপর সংঘটিত নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনাবলির স্মরণে প্রতিবছর ২৩ আগস্ট ‘কালো দিবস’ পালন করা হয়।