ঢাবিতে বিশ্বকাপ প্রদর্শনী

মাঠভাড়া-বিদ্যুৎ বিল না পাওয়া ও বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে বাধার অভিযোগ, প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:০৩ অপরাহ্ন, ০৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৬ অপরাহ্ন, ০৫ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আয়োজিত বিশ্বকাপ ফুটবল প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবহার করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে আয়োজন পরিচালনা করলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো আর্থিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পাচ্ছে না। একই সঙ্গে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের আপত্তির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সাদিক কায়েম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান না দেওয়া। তবে বাস্তবে যথাযথ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই আয়োজন পরিচালনা করছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজনের কথা বলা হলেও তা বাণিজ্যিক প্রচারণার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন: রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক চিত্রকর্ম প্রতিযোগিতায় ঢাবি শিক্ষার্থীর সাফল্য

ডাকসু ভিপির দাবি, একটি ছাত্রসংগঠনের সহযোগিতায় পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল প্রদর্শনী উপলক্ষে অনিয়ন্ত্রিত বহিরাগত প্রবেশের কারণে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা, শব্দদূষণ, যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ, শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং মোবাইল ফোন হারানোর মতো ঘটনা ঘটেছে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক ক্যাম্পাস পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করেছে।

সাদিক কায়েম জানান, এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা শেষে গত ২৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ এবং যান চলাচল সীমিত করার নির্দেশনা জারি করে ও প্রবেশপথে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেয়।

আরও পড়ুন: রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক চিত্রকর্ম প্রতিযোগিতায় ঢাবি শিক্ষার্থীর শিল্পকর্ম সেরা হিসেবে নির্বাচিত

তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ কার্যকর না হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল আয়োজক প্রতিষ্ঠানের আপত্তি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আয়োজক প্রতিষ্ঠানের আশঙ্কা ছিল, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হলে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান স্পন্সরশিপ প্রত্যাহার করতে পারে, যার ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। এ কারণে একটি ছাত্রসংগঠনের মাধ্যমে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ডাকসু ভিপি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছাড়া বহিরাগত নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়ন আর দেখা যায়নি। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজেদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিবর্তে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও স্পন্সরশিপ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থের পরিপন্থী।

তিনি বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার স্থান নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবহার করা হলে তার প্রথম ও প্রধান উপকারভোগী হতে হবে শিক্ষার্থীরা। কোনো স্পন্সর, বাণিজ্যিক স্বার্থ বা গোষ্ঠীগত সুবিধার জন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।"

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি দাবি করে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।