ঢাবিতে জাপান টেক ট্যালেন্ট ইন্টার্নশিপ নিয়ে ক্যারিয়ার ইভেন্ট

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:৩৪ অপরাহ্ন, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৪ অপরাহ্ন, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘গ্লোবাল সাউথ-জাপান টেক ট্যালেন্ট ইন্টার্নশিপ’ (GS-JTI) কর্মসূচির আওতায় অন-ক্যাম্পাস ক্যারিয়ার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জাপানের আটটি প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে ইন্টার্নশিপ, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাপানে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: কুবিতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি, রেজিস্ট্রারকে স্মারকলিপি

জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে GS-JTI সচিবালয়, ডেলয়েট তোহমাতসু ভেঞ্চার সাপোর্ট এবং কোয়েই রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের সহযোগিতায় কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়। উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রযুক্তি-প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ তৈরি এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল ও নতুন ধারণার সন্ধান করাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. উপমা কবির। GS-JTI সচিবালয়ের প্রতিনিধি তাতসুয়া ইয়ামাদা কর্মসূচির সার্বিক বিষয় এবং জাপানে কাজের সুযোগ ও পরিবেশ সম্পর্কে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশিদ।

আরও পড়ুন: সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে রাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মানববন্ধন

ক্যারিয়ার ইভেন্টে জাপানের আটটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—অ্যাডোরো ইনকর্পোরেটেড, এ-ওয়ান রোড কোং লিমিটেড, অ্যাস্টার কোং লিমিটেড, এডব্লিউএল ইনকর্পোরেটেড, ক্যাপার ইনকর্পোরেটেড, গ্রিন কার্বন ইনকর্পোরেটেড, জাপান সুপারকন্ডাক্টিভিটি অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ইনকর্পোরেটেড এবং নোয়াহলজি কোং লিমিটেড।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কম্পিউটার ভিশন, এজ এআই, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা, দুর্যোগ সহনশীলতা, কার্বন প্রকল্প ও টেকসই উন্নয়ন, সুপারকন্ডাক্টিং প্রযুক্তি এবং জাহাজ নির্মাণে এআইয়ের ব্যবহার।

ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপের দায়িত্ব, আবেদনের যোগ্যতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারেন। একই সঙ্গে জাপানি কর্মপরিবেশ, আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে কাজ এবং শিল্পভিত্তিক প্রকল্পে একাডেমিক জ্ঞান প্রয়োগের বিষয়েও ধারণা পান।

অংশগ্রহণকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জানায়, নিজস্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ব্যবসায়িক চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ ও ভালো ফলাফলকারী ইন্টার্নদের জন্য ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, এআই ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানুফ্যাকচারিং ডেটা অ্যানালাইসিস এবং সাসটেইনেবিলিটি খাতে সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্রের কথাও তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সংযোগ তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে বর্তমান দক্ষতার চাহিদা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে গবেষণা, ইন্টার্নশিপ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগও তৈরি হয়।