৬৮ আসনে জামায়াত, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ৬৮.০৫ শতাংশ

২৯৭ আসনের বেসরকারি ফল: ২০৯ আসনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়

Sanchoy Biswas
এম এম লিংকন
প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ন, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৮ অপরাহ্ন, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একযোগে অনুষ্ঠিত গণভোটে বেসরকারি ফলাফল প্রকাশের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ স্পষ্ট হয়েছে। ২৯৭টি আসনের ঘোষিত ফলাফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি । অন্যদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) আদেশ ২০২৫ বাস্তবায়নের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

শুক্রবার ( ১৩ ফেব্রুয়ারী) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বেসরকারি ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: ২৩৭ আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ শুক্রবারই, ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ

আসনভিত্তিক ফলাফল: কার ঝুলিতে কত?

ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে:

আরও পড়ুন: সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের হার ৫৯.৪৪ শতাংশ: ইসি

বিএনপি — ২০৯ আসন

জামায়াত — ৬৮ আসন

জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি — ৬ আসন

স্বতন্ত্র প্রার্থী — ৭ আসন

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ — ২ আসন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ— ১ আসন

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি—আন্দালীব রহমান পার্থ নেতৃত্বাধীন — ১ আসন

গণঅধিকার পরিষদ— ১ আসন

গণসংহতি আন্দোলন— ১ আসন

খেলাফত মজলিশ— ১ আসন

ফলাফলের এই চিত্রে স্পষ্ট যে, বিএনপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং সরকার গঠনের সাংবিধানিক সক্ষমতা অর্জন করেছে। জামায়াত দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছে।

ভোটার উপস্থিতি: ৬০ শতাংশের কাছাকাছি: 

ইসি সচিব জানান, ঘোষিত ২৯৭টি আসনে গড় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯.৪৪ শতাংশ। আর ২৯৯টি আসনের সামগ্রিক হিসাবে গড় ভোটার উপস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬০.২৬ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্যমতে, সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

স্থগিত ও বাতিল আসন: 

আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের বেসরকারি ফলাফল আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন পূর্বেই বাতিল ঘোষণা করা হয়।

গণভোটে স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) আদেশ ২০২৫ বাস্তবায়নের প্রশ্নে ভোটারদের স্পষ্ট মতামত প্রতিফলিত হয়েছে।

‘হ্যাঁ’ ভোট: ৪,৮০,৭৪,৪২৯ জন (৬৮.০৫%)

‘না’ ভোট: ২,২৫,৬৫,৬২৭ জন (৩১.৯৫%)

ফলাফলে দেখা যায়, দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভোটার সংস্কার আদেশের পক্ষে মত দিয়েছেন—যা ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা: 

বেসরকারি ফলাফলের এই চিত্র দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। একদিকে সংসদে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অন্যদিকে গণভোটে সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে উচ্চ সমর্থন—দুই মিলিয়ে আসন্ন সময়ের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের ভিত্তি রচিত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।