ভোটে নারীর উপস্থিতি বাড়লেও প্রার্থী কম, হতাশা ইসির

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহ্ন, ১৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১:৫৮ পূর্বাহ্ন, ১৭ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা সন্তোষজনক হলেও প্রার্থী হিসেবে নারীদের সংখ্যা এখনো অত্যন্ত কম—যা হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, নির্বাচনে নারীরা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নে তাদের উপস্থিতি এখনও খুবই সীমিত। 

সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

আরও পড়ুন: ভোট কারচুপির অভিযোগে অন্তত ৩৬ প্রার্থীর নির্বাচনী আবেদন

তিনি বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ভোটই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। আগে যেসব এলাকায় নারীদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি কম ছিল, সাম্প্রতিক নির্বাচনে সেসব এলাকাতেও নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে। এতে বোঝা যায়, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীদের আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা ক্রমেই বাড়ছে।

তবে ভোটার হিসেবে সক্রিয় হলেও প্রার্থী হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ এখনও আশানুরূপ নয় বলে মন্তব্য করেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি জানান, সর্বশেষ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল মাত্র প্রায় ৪ শতাংশের মতো, যা দেশের জনসংখ্যা ও ভোটার কাঠামোর তুলনায় অত্যন্ত কম।

আরও পড়ুন: ৯ এপ্রিল বগুড়া–৬ ও শেরপুর–৩ আসনের ভোট, প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট সুবিধা

রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামোতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে বিদ্যমান আইনি বাধ্যবাধকতার কথাও তুলে ধরেন মাছউদ। তিনি বলেন, Representation of the People Order (RPO) অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—২০৩০ সালের মধ্যে দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সব পর্যায়ের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য নিশ্চিত করা।

আরপিও’র ৯০ (বি), (সি) ও (জি) ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়মিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হয় তারা এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কতটা অগ্রগতি অর্জন করেছে। কোনো দল যদি এই শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের সেই দলের নিবন্ধন বাতিল করার ক্ষমতাও রয়েছে।

তবে তিনি বলেন, যেহেতু এই লক্ষ্য পূরণের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময়সীমা রয়েছে, তাই এখনই কোনো দলের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার পরও যদি কোনো দল এই শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কমিশন আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সামনে রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সেখানে সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি সরাসরি নির্বাচিত পদগুলোতেও নারীদের আরও বেশি সংখ্যায় প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নারী নেতৃত্ব ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে যারা কাজ করছেন, তারা সাধারণ নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে আরও উৎসাহিত করবেন। এতে করে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীর উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াও আরও শক্তিশালী হবে।