আঞ্চলিক পর্যায়েই আঙুলের ছাপ যাচাই: ভোটার সেবায় বড় স্বস্তি আনছে ইসি

Sanchoy Biswas
এম এম লিংকন
প্রকাশিত: ৪:৩৫ অপরাহ্ন, ২৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩৫ অপরাহ্ন, ২৫ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে আঙুলের ছাপ যাচাই (এএফআইএস ম্যাচিং) কার্যক্রম আঞ্চলিক পর্যায়ে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে করে একই কাজের জন্য একাধিক দপ্তরে ঘোরাঘুরি থেকে মুক্তি পাবেন সাধারণ নাগরিকরা।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন—বিশেষ করে নাম, পিতা-মাতার নাম বা অন্যান্য তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এতদিন একটি বড় বাধা ছিল আঙুলের ছাপ যাচাই প্রক্রিয়া। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও কেবল অটোমেটেড ফিঙ্গার আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এএফআইএস) ম্যাচিংয়ের জন্য ভোটারদের জেলা বা মেট্রোপলিটন নির্বাচন কার্যালয়ে যেতে হতো। ফলে সময়, খরচ ও ভোগান্তি—তিন দিক থেকেই চাপে পড়তেন সেবাগ্রহীতারা।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে স্পিকারের সঙ্গে কালকে বৈঠকে বসবে ইসি

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের কার্যালয়েও এএফআইএস যাচাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে। ফলে আগের মতো আলাদা করে জেলা কার্যালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রেই থাকবে না।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বুধবার ২৫ মার্চ  গণমাধ্যমকে জানান, আগে আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের জন্য জেলা পর্যায়ের কার্যালয়ে যেতে হতো, যা অনেক ক্ষেত্রে সেবাপ্রার্থীদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারাও এখন এএফআইএস যাচাই করতে পারবেন। তবে জেলা কার্যালয়ের বিদ্যমান ক্ষমতা বহাল থাকবে।

আরও পড়ুন: তফসিল ঘোষণায় স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে যাচ্ছে ইসি

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এর আগে থানা বা মেট্রোপলিটন পর্যায়ের কিছু কার্যালয়ে এই সুবিধা থাকলেও তা সব উপজেলায় বিস্তৃত ছিল না। ফলে অনেক ভোটারকে বাধ্য হয়ে দূরবর্তী জেলা কার্যালয়ে যেতে হতো। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এই সীমাবদ্ধতা দূর হবে এবং সেবা আরও বিকেন্দ্রীকরণ হবে।

যদিও সিদ্ধান্তটি ঈদের আগে অনুষ্ঠিত ইসির একটি সমন্বয় সভায় গৃহীত হয়েছে, এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠপর্যায়ে চালু হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি হলে দ্রুতই এই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ভোটার সেবার গতি বাড়বে, একই সঙ্গে নাগরিকদের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। নির্বাচন কমিশনের সেবায় এটি একটি কার্যকর ও জনবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।