তিন সিজনের পর বড় পর্দায় ‘মির্জাপুর’, কালীন-মুন্না-গুড্ডুর সঙ্গে নতুন চমক রবি কিশান

‘মির্জাপুর দ্য মুভি’: পুরোনো চরিত্র, নতুন ক্ষমতার লড়াই

Shahrier Islam Pallab
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩৪ অপরাহ্ন, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তিনটি সিজনে ওটিটিতে দর্শকদের মাতানোর পর এবার বড় পর্দায় অভিষেক হলো জনপ্রিয় ক্রাইম-ড্রামা সিরিজ ‘মির্জাপুর’-এর। তবে দর্শকদের জন্য চমক হলো—ছবিটি তৃতীয় সিজনের গল্পের পর থেকে শুরু হয়নি। বরং প্রথম সিজনের সময়কালকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। গুরমিত সিং পরিচালিত ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন পুনীত কৃষ্ণ। এতে অভিনয় করেছেন আলি ফজল, পঙ্কজ ত্রিপাঠী, দিব্যেন্দু, জিতেন্দ্র কুমার, রবি কিশান, রসিকা দুগাল, শ্বেতা ত্রিপাঠী, শ্রীয়া পিলগাঁওকর, শিবা চাড্ডা, রাজেশ তাইলাং, কুলভূষণ খারবান্দাসহ একঝাঁক পরিচিত মুখ। ছবিটির রেটিং৩/৫।

গল্পে আবারও মির্জাপুরের সিংহাসন

আরও পড়ুন: দুই দশকের সুরযাত্রায় এখনো অনন্য হাবিব ওয়াহিদ

ছবির গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে মির্জাপুরের ক্ষমতার সিংহাসন। পঙ্কজ ত্রিপাঠীর কালীন ভাইয়া এখনও নিজের সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। তার ছেলে মুন্নাকে উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হলেও কালীন ভাইয়ার আস্থাভাজন গুড্ডু ও বাবলু কে ঘিরে তৈরি হয় পারিবারিক ও ব্যবসায়িক নতুন সমীকরণ। এর মধ্যেই রবি কিশানের বাব্বন যাদব মির্জাপুরে প্রবেশ করে ক্ষমতার খেলায় নিজের জায়গা তৈরি করতে চায়। এরপর শুরু হয় দখল, প্রতিশোধ ও আধিপত্যের লড়াই। তবে ছবির গল্প শুধু বন্দুক আর সিংহাসন দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর ভেতরে উঠে এসেছে বাবা-ছেলের সম্পর্ক, পুরুষতান্ত্রিক অহং, ঈর্ষা, নিরাপত্তাহীনতা এবং নিজের যোগ্যতার স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।

সিরিজের স্বাদ থাকলেও গতি কম

আরও পড়ুন: সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে ৩ দিনজুড়ে চলবে সিনেমা প্রদর্শনী

‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’র সবচেয়ে বড় শক্তি এর পরিচিত আবহ। সিরিজের ভক্তরা চরিত্রগুলোর ভাষা, রসবোধ, সহিংসতা এবং মির্জাপুরের অন্ধকার জগতের সঙ্গে সহজেই নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন।

বেশ কিছু জায়গায় হাস্যরস ভালো কাজ করেছে। বিশেষ করে চরিত্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে তৈরি হওয়া কমেডি ছবিতে প্রাণ এনে দিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে অ্যাকশনও জমে ওঠে এবং ক্লাইম্যাক্সের দিকে ছবির উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। চিত্রায়ণও বেশ আকর্ষণীয়। সংগীত ছবির আবহ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে ছবিটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা পেসিং। গল্পের মূল সংঘাতে পৌঁছাতে বেশ সময় নেওয়ায় প্রথমার্ধের কিছু অংশ ধীরগতির মনে হতে পারে। কিছু দৃশ্য ও ঘটনা আবার দর্শকের বিশ্বাসযোগ্যতার সীমাকেও পরীক্ষা করে।এ ছাড়া সিনেমাটোগ্রাফি কার্যকর হলেও খুব ব্যতিক্রমী নয়। সোনাল চৌহানের আইটেম গানটিও গল্পের সঙ্গে খুব একটা প্রয়োজনীয় মনে হয়নি।

পঙ্কজ-আলি-দিব্যেন্দুর দাপট

অভিনয়ের জায়গায় আবারও নিজের জাত চিনিয়েছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী। কালীন ভাইয়া চরিত্রে তার উপস্থিতিই অনেক সময় দৃশ্যকে ভারী করে তোলে। সংলাপের চেয়ে চোখের অভিব্যক্তি, নীরবতা ও শরীরী ভাষার মাধ্যমেই তিনি চরিত্রটির ক্ষমতা প্রকাশ করেছেন। আলি ফজল কে গুড্ডুর চরিত্রে আরও আগ্রাসী ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী রূপে দেখা যায়। চরিত্রের রাগ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা তিনি বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে দিব্যেন্দু আবারও মুন্না হিসেবে অনবদ্য। আলি ফজলের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব ও রসায়ন ছবির অন্যতম আকর্ষণ। জিতেন্দ্র কুমার বাবলু চরিত্রে ভালো করেছেন।

সহ-অভিনেতাদের মধ্যে শিবা চাড্ডা ও কুলভূষণ খারবান্দা উল্লেখযোগ্য। রসিকা দুগাল এবার তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থবহ একটি চরিত্র পেয়েছেন। তবে শ্রীয়া পিলগাঁওকর, শ্বেতা ত্রিপাঠী ও হর্ষিতা গৌরের চরিত্রে তেমন সুযোগ ছিল না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি।

চমক রবি কিশান

ছবির অন্যতম বড় চমক রবি কিশান। বাব্বন যাদব চরিত্রে তিনি দাপুটে, অদ্ভুত এবং ভয়ংকর—তিন ধরনের আবহ একসঙ্গে তৈরি করেছেন। পর্দায় তার উপস্থিতি ছবির উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। অনেক দৃশ্যেই তিনি অন্য অভিনয়শিল্পীদের ছাপিয়ে নিজের দিকে দর্শকের মনোযোগ টেনে নেন। ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ নতুন কোনো জগত তৈরি না করে পরিচিত জগতকেই বড় পর্দায় বিস্তৃত করেছে। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তাই গল্পের অভিনবত্ব নয়, বরং পুরোনো চরিত্রগুলোর নতুন সমীকরণ পেসিংয়ের সমস্যা, কিছু দুর্বল লেখা এবং অপ্রয়োজনীয় গান ছবিটির মান কিছুটা কমিয়েছে। তারপরও দুর্দান্ত অভিনয়, হাস্যরস, অ্যাকশন এবং ‘মির্জাপুর’-এর পরিচিত আবহের কারণে ছবিটি সিরিজের ভক্তদের জন্য উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য যে, বক্স অফিসের হিসাবে, মুক্তির প্রথম দিনে মির্জাপুর: দ্য মুভি প্রদর্শিত হয়েছে ১১ হাজার ১৩৫টি শোতে। প্রেক্ষাগৃহে গড় আসন পূর্ণতার হার ছিল ৪২ দশমিক ৮১ শতাংশ। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শক উপস্থিতিও বেড়েছে। সকালে আসন পূর্ণতার হার ছিল ২৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বিকেলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং সন্ধ্যায় ৪১ দশমিক ৮৫ শতাংশে। তবে সবচেয়ে বেশি সাড়া পাওয়া গেছে রাতের শোগুলোতে। এ সময় আসন পূর্ণতার হার ৬২ দশমিক ৩৮ শতাংশে পৌঁছে যায়। প্রথম দিনের আয়ের হিসাবে সিনেমাটি ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া হিন্দি সিনেমাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে।