আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু, নিহত ১৩৩
সীমান্তে হামলা, সেনা নিহত ও অপহরণের ঘটনার জেরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তান। ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ নামের এই অভিযানে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩৩ আফগান সেনা নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
শুক্রবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ–এর বিদেশি সংবাদমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানান, রাত ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে যৌথভাবে অভিযান শুরু করে পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ) ও স্থলবাহিনী।
আরও পড়ুন: শেষ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন, সন্ত্রাসবাদ ও একতরফা সংঘাতের নিন্দা
তার দাবি অনুযায়ী, রাজধানী কাবুল ছাড়াও পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে আফগান বাহিনীর বিভিন্ন সদর দপ্তর, গোলাবারুদের ডিপো ও লজিস্টিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি কয়েকটি সেনাচৌকি গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং কিছু চৌকি দখলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমান হামলায় আফগান সেনাবাহিনীর একাধিক ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর হেডকোয়ার্টার, সাঁজোয়া যান, ট্যাংক ও আর্টিলারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি বড় গোলাবারুদের মজুতঘরও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আরও পড়ুন: পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। সে সময় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর জানায়, নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)–এর আস্তানাকে লক্ষ্য করেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল।
তবে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার দাবি করে, হামলা হয়েছে বেসামরিক এলাকায়। তারা এর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাচৌকিতে হামলার ঘটনায়। ওই হামলায় কয়েকজন সেনা নিহত ও কয়েকজনকে অপহরণ করা হয় বলে জানায় পাকিস্তান। তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ দাবি করেন, উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।
সীমান্তের এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু হওয়ায় অঞ্চলজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।





