বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
দ্রুত ইরান যুদ্ধ শেষ না করলে বিপর্যয়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কেন দ্রুত ও নির্ণায়কভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। বিশ্লেষকদের মতে, দৃশ্যমান সামরিক শক্তির তুলনায় বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল ও বহুস্তরীয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই বিভিন্ন সংঘাতের প্রসঙ্গে দুর্বল পক্ষের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করলেও, ইরান-এর ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। সামরিক সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকলেও তেহরান কৌশলগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা কাজে লাগাচ্ছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র স্থল আগ্রাসন চালালে ইরানের পক্ষে লড়বে রাশিয়ার চেচেন আর্মি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মধ্যে অন্যতম হলো হরমুজ প্রণালী—বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। ইরান এই রুটে প্রভাব বিস্তার করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে এই নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে পারে। তবে এমন পদক্ষেপের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এতে পাল্টা হামলার আশঙ্কা বাড়বে, এমনকি মার্কিন নৌবহরও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে বড় আকারের যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানে পারমাণবিক সংঘাত অনিবার্য: রাশিয়ার সতর্কবার্তা
এছাড়া স্থলবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জটিল। এতে সেনা হতাহতের সম্ভাবনা বাড়বে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
হোয়াইট হাউস সীমিত আকারে কিছু তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও, বিশ্লেষকদের মতে এটি এখনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নয়। সংঘাতের আগে যেখানে প্রতিদিন শতাধিক ট্যাংকার চলাচল করত, বর্তমান সংখ্যা তার তুলনায় অনেক কম।
এদিকে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও প্রয়োজনে তা শিথিল করার কৌশলও যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করছে। তবে এই পদক্ষেপেরও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে—তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের চেয়ে বেশি “কৌশলগত ধৈর্যের লড়াই”-এ পরিণত হয়েছে। শক্তিশালী সামরিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি জড়িত।
সবশেষে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক সমাধান না এলে এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।





