ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি বৈঠক, ‘ইতিবাচক’ পরিবেশে কূটনীতিতে নতুন অধ্যায়
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি আলোচনা নতুন এক কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথমবারের মতো এত উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠকে বসেছে দুই দেশ, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক শুরুতে পরোক্ষভাবে হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সরাসরি সংলাপে রূপ নেয়। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা পুরো আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে সহায়তা করেন।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক উত্তেজনা বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে লেবাননের পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সামরিক তৎপরতা সীমিত রাখার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও মতবিনিময় হয়।
এছাড়া ইরানের দীর্ঘদিনের দাবি—বিদেশে আটকে থাকা আর্থিক সম্পদ মুক্ত করা এবং কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো সীমিত অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানের সম্পদ ছাড়ার দাবি নাকচ হোয়াইট হাউসের, আলোচনার মধ্যেই নতুন জটিলতা
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের জন্য নয়, বরং পুরো পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপরও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর সরাসরি সংলাপ শুরু হওয়াকে তারা বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
তবে আলোচনার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র বলছে, রাতের খাবারেও দুই পক্ষের আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহল সতর্ক আশাবাদ নিয়ে ইসলামাবাদের এই বৈঠকের পরবর্তী অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে।





