যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করবে: ট্রাম্পের কঠোর বার্তা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, ২২ মে ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৬ অপরাহ্ন, ২১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কোনোভাবেই তাদের কাছে রাখতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে সেই ইউরেনিয়াম জব্দ করে ধ্বংস করবে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি প্রয়োজন হয় তবে যুক্তরাষ্ট্র “অত্যন্ত কঠোর ও চরম পদক্ষেপ” নিতেও পিছপা হবে না।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না, কী বললেন নিউইয়র্কের মেয়র?

ট্রাম্প বলেন, “আমরা নিশ্চিত করব যাতে ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকে। আমেরিকার জনগণও একমত যে ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।”

এক সাংবাদিক জানতে চান, সম্ভাব্য কোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান কি তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের দেশে রাখতে পারবে কিনা। জবাবে ট্রাম্প দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে বলেন, “না, কোনো সুযোগ নেই। আমরা ওটা নিয়ে নেব এবং সম্ভবত ধ্বংস করে দেব। কোনো অবস্থাতেই তা ইরানের কাছে থাকতে দেওয়া হবে না।”

আরও পড়ুন: সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগে ছত্রভঙ্গ, ইন্টারনেট বন্ধ

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নির্দেশ দিয়েছেন যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না। তবে তেহরান এই প্রতিবেদনকে “ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এটি শান্তি চুক্তিবিরোধী পক্ষগুলোর পরিকল্পিত প্রচারণা।

তিনি জানান, ইরানের অবস্থান শুরু থেকেই পরিষ্কার। দেশটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা (আইএইএ)-এর তত্ত্বাবধানে নিজেদের পারমাণবিক কেন্দ্রে ইউরেনিয়াম “ডাউনব্লেন্ড” করে বেসামরিক ব্যবহারের উপযোগী করতে চায়, যাতে তা দিয়ে অস্ত্র তৈরি সম্ভব না হয়।

ইরানি ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর পরিবর্তে ইরানের ভেতরেই তা ডাউনব্লেন্ড করার বিষয়টি ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।