ইরান যুদ্ধের চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা, বিতর্কে রিপাবলিকান নেতারা

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৫১ অপরাহ্ন, ২১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৪ অপরাহ্ন, ২১ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের অবসান ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কট্টরপন্থি রিপাবলিকান নেতা ও রক্ষণশীল বিশ্লেষকদের একাংশ এ চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর বলে আখ্যা দিয়েছেন।

রক্ষণশীল বিশ্লেষক এরিক এরিকসন দাবি করেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। একইভাবে টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ চুক্তির সমালোচনা করে বলেন, যেসব গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করতে চায় তাদের হাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

আরও পড়ুন: সোমবার পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার

অন্যদিকে লুইজিয়ানার সিনেটর বিল ক্যাসিডি এ চুক্তিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুলগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন।

সমালোচকদের অভিযোগ, চুক্তির ফলে ইরান অবরুদ্ধ থাকা শত শত কোটি ডলার ফেরত পাবে এবং ভবিষ্যতে দেশ পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের সুবিধা লাভ করবে। এছাড়া ৬০ দিন পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে আংশিক ফি বা শুল্ক আদায়ের সুযোগও পেতে পারে দেশটি।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং যুদ্ধ শুরু করাটাই ছিল মূল ভুল। তাদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আরও প্রাণহানি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি হতো। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল।

ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, চুক্তি না হলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হতে পারত এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা কঠিন হয়ে যেত। অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতেই তিনি সমঝোতার পথে এগিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষে আলোচনায় ইরান শক্ত অবস্থানে থাকায় চুক্তির অনেক শর্ত তাদের পক্ষে গেছে। একই সঙ্গে এ যুদ্ধের ফলে ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন সেই চুক্তি থেকে সরে আসে এবং নতুন সমঝোতার প্রতিশ্রুতি দেয়।

সমালোচকদের মতে, দীর্ঘ সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক মূল্য দিতে হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ইরানিরাও এই সংঘাতের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।