কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ১১১

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, ১১ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, ১১ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমারে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল

ভূমিকম্পের পর অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এসব কম্পনের প্রভাব প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।

আক্রান্ত এলাকাগুলোর মধ্যে ক্যালিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সেখানে অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়েছে এবং আরও ৩৮০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা একসঙ্গে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন: শিশুদের টিকা ১৮ থেকে ১১টিতে কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

রোদিসারালদা অঞ্চলে ৪০ জন, ভালে দেল কাউকা অঞ্চলে ২৭ জন এবং চোকো অঞ্চলে ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ক্যালির ৬৪ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক হোর্হে মনকায়ো জানান, ভূমিকম্পের সময় পুরো শহরজুড়ে ধুলোর মেঘ দেখা যায় এবং একের পর এক ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে।

এদিকে পেরেইরা শহরের বিমানবন্দরের একটি অংশের ছাদ ধসে পড়েছে। মানিজালেস শহরের একটি ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালের মিনারও ভেঙে পড়েছে।

ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। নতুন দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট আবোলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

দুর্যোগের কারণে কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল তালিকায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও সহযোগিতা আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এল সালভাদোর, মেক্সিকো, চিলি, ইসরায়েল, ইকুয়েডর ও ফ্রান্সও উদ্ধারকাজে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।

ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।