ওষুধ ছাড়াই ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে যে অভ্যাসগুলো জরুরি

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:০৫ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৫২ অপরাহ্ন, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফ্যাটি লিভারকে অনেকেই শুধু অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা মনে করেন। তবে শরীরের গঠন পাতলা হলেও এ রোগ হতে পারে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা ও ওজন ব্যবস্থাপনায় টেকসই পরিবর্তন এনে অনেক ক্ষেত্রে লিভারে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমানো সম্ভব।

বর্তমানে ফ্যাটি লিভারকে সাধারণত মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) বলা হয়। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার পাশাপাশি এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ও পেটের অতিরিক্ত চর্বির মতো বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।

আরও পড়ুন: আজ মহান শিক্ষা দিবস

তবে ফ্যাটি লিভারের উন্নতির জন্য দ্রুত ওজন কমানো, ক্র্যাশ ডায়েট বা তথাকথিত ‘ডিটক্স’ পদ্ধতির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। বরং দীর্ঘমেয়াদে অনুসরণ করা যায়—এমন জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ।

ওজন কমাতে হলে ধীরে এগোন

আরও পড়ুন: ৫ অভ্যাস যেকোনো বয়সে বদলে দিতে পারে শরীর ও স্বাস্থ্য

অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকলে ধীরে ধীরে ওজন কমানো ফ্যাটি লিভারের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে। খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার ও পানীয় কমানো এবং দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ানোর মাধ্যমে টেকসইভাবে ক্যালোরি গ্রহণ কমানো যায়।

তথ্য অনুযায়ী, শরীরের ওজন ৩ থেকে ৫ শতাংশ কমাতে পারলে লিভারে জমা চর্বি কমতে পারে। আর অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে লিভারের প্রদাহ ও ফাইব্রোসিসের উন্নতিতে প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ ওজন কমানো প্রয়োজন হতে পারে।তবে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা না করে ধীরে ধীরে এমন পরিবর্তন আনা ভালো, যা দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব।

আবার স্বাভাবিক ওজনের মানুষেরও ফ্যাটি লিভার হতে পারে। তাদের ক্ষেত্রে শুধু ওজন কমানো নয়, সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখার দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

চিনি ও পরিশোধিত শর্করা কমান

অতিরিক্ত চিনি, চিনিযুক্ত পানীয় এবং পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবার অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ ও বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই সফট ড্রিঙ্কস, অতিরিক্ত মিষ্টি জুস, মিষ্টি, বিস্কুট, কেকসহ অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করা ভালো।

এর পরিবর্তে শাকসবজি, গোটা শস্য, ডাল, শিম, বাদাম ও গোটা ফলের মতো আঁশ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কী ধরনের শর্করা খাওয়া হচ্ছে এবং কতটা খাওয়া হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সব ধরনের চর্বি বাদ দেওয়ার দরকার নেই

ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই সব ধরনের চর্বিযুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে—এমন নয়। বরং স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার কমিয়ে পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেছে নেওয়া যেতে পারে। বাদাম, বীজ, মাছ ও উদ্ভিজ্জ তেলে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার সীমিত করা ভালো।

এ ক্ষেত্রে কোনো একটি খাবারের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে পুরো খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন

ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শারীরিক কার্যকলাপ গুরুত্বপূর্ণ। ওজন না কমলেও নিয়মিত ব্যায়াম বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং লিভারে জমে থাকা চর্বি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন ফিজিওলজি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম—যেমন দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা জগিং—বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি শক্তিবর্ধক ব্যায়াম পেশি তৈরি ও ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

তবে শুরুতেই কঠিন ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের হাঁটা ও অন্যান্য শারীরিক নড়াচড়া ধীরে ধীরে বাড়ানো এবং নিয়মিত করা সম্ভব—এমন ব্যায়াম বেছে নেওয়াই বাস্তবসম্মত।

ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ লিভারের সমস্যার অগ্রগতির ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।তাই ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না। রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

কিছু ক্ষেত্রে এসব সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। ওষুধ গ্রহণের অর্থ এই নয় যে জীবনযাপনের পরিবর্তন ব্যর্থ হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন একসঙ্গেই চলতে পারে।

ওষুধ ছাড়া কি ফ্যাটি লিভার ভালো হতে পারে?

বিশেষ করে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে অনেকের লিভারে জমে থাকা চর্বি ও সংশ্লিষ্ট প্রদাহ কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে ফ্যাটি লিভারের ধরন ও মাত্রা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন। তাই রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।