৫ অভ্যাস যেকোনো বয়সে বদলে দিতে পারে শরীর ও স্বাস্থ্য

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩০ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফিট শরীর গড়তে কুড়ির কোঠায় থাকতেই হবে—এমন ধারণা এখন আর সত্য নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর ডায়েট বা জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানোর চেয়ে প্রতিদিনের কিছু সহজ ও নিয়মিত অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও স্বাস্থ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। নিজের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলেই যেকোনো বয়সে ফিট থাকা সম্ভব।

১. প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন

আরও পড়ুন: কমলার উচ্ছিষ্ট থেকে যেভাবে তৈরি হলো ঘন বন

হাঁটা হলো শরীরচর্চার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়গুলোর একটি। নিয়মিত হাঁটলে হৃদ্‌যন্ত্র ভালো থাকে, অস্থিসন্ধির কার্যকারিতা বাড়ে, মেজাজ উন্নত হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ না নিয়ে নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী শুরু করা উচিত। ধীরে ধীরে হাঁটার সময় ও দূরত্ব বাড়ালে শরীর সহজেই এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।

আরও পড়ুন: সুপ্রাচীন ইতিহাস সম্বলিত মিউজিয়াম 'সুন্দরবন সংগ্রহশালা'

 ২. সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ওজন নিয়ে ব্যায়াম

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি কমে যাওয়া এবং হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পাওয়া স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত স্ট্রেংথ বা ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলে এ প্রক্রিয়া অনেকটাই ধীর করা সম্ভব।

গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন নিয়ে ব্যায়াম পেশি ও হাড়ের শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং শরীরের ভারসাম্য উন্নত করে। এতে বয়সজনিত আঘাতের ঝুঁকিও কমে যায়। ডাম্বেল, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড বা নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করেও এই ধরনের ব্যায়াম করা যেতে পারে।

৩. খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের গুরুত্ব বাড়ান

পেশি গঠন ও মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত দুই বেলা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উপকারী। ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, ডাল বা বাদামের মতো খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়ক হতে পারে।

৪. ঘরে তৈরি খাবার বেশি খান

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস হলো ঘরে রান্না করা খাবার খাওয়া। এতে খাবারের উপকরণ, তেল, লবণ ও চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে, বাইরে বা প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত ক্যালোরি, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে ঘরে তৈরি খাবারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

 ৫. পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করুন

ভালো ঘুম শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত ঘুম পেশি পুনর্গঠন, হরমোন নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি রাতে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে একটি নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করাও ভালো ঘুমে সহায়তা করতে পারে।

ফিট থাকার জন্য বয়স নয়, বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের ছোট ছোট পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও স্বাস্থ্যে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।