রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালেই বাড়তে পারে যেসকল রোগ

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ন, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪০ অপরাহ্ন, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কাজের চাপ বা ব্যস্ততার কারণে অনেকেই ঘুমের সময় কমিয়ে দেন। সাময়িকভাবে বিষয়টি তেমন ক্ষতিকর মনে না হলেও নিয়মিতভাবে রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমানোর অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় অপর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে হৃদরোগ ও অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার সময় নয়। এ সময় রক্তচাপ, হরমোন, বিপাকীয় কার্যক্রম ও স্নায়ুতন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হৃদপিণ্ড ও রক্তনালির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: পছন্দের খাবার দেখলেই কেন জিভে জল আসে? জানুন বৈজ্ঞানিক কারণ

কম ঘুমে যেসব ঝুঁকি বাড়তে পারে

নিয়মিতভাবে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

আরও পড়ুন: চুলে সাবান ব্যবহার কতটা নিরাপদ? নিয়মিত ব্যবহারে হতে পারে যে ক্ষতি

  • উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি
  • করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বাড়া
  • অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি
  • স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়া
  • টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি
  • ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার সম্ভাবনা বাড়া

টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতা নিজেরাও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কীভাবে হৃদপিণ্ডে প্রভাব ফেলে কম ঘুম?

গভীর ঘুমের সময় সাধারণত রক্তচাপ কিছুটা কমে যায়। কিন্তু নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি হলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অপর্যাপ্ত ঘুম কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রাও বাড়াতে পারে। এতে রক্তনালি ও হৃদপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া ঘুমের ঘাটতির সঙ্গে শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ রক্তনালির ক্ষতি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কম ঘুম রক্তে শর্করা ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

ঘুমের অনিয়ম স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই স্নায়ুতন্ত্র হৃৎস্পন্দন ও হৃদযন্ত্রের ছন্দ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গবেষণাতেও মিলেছে ঘুম ও হৃদরোগের সম্পর্ক

২০২৪ সালে American Journal of Preventive Cardiology-তে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় অপর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে হৃদরোগজনিত মৃত্যু, কার্ডিওমেটাবলিক ঝুঁকি এবং করোনারি আর্টারি ডিজিজের উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়।

এ ছাড়া ২০২৫ সালে Frontiers in Neuroscience-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে ঘুমের সময়কাল ও ঘুমের ব্যাঘাতসহ বিভিন্ন ঘুম-সম্পর্কিত বিষয়ের সঙ্গে কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকির উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

কত ঘণ্টা ঘুমানো ভালো?

বেশিরভাগ হৃদ্‌স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশিকায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণভাবে এই সময়কালকে তুলনামূলক কম কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।

তাই কাজ বা অন্য ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত ঘুমের সময় কমিয়ে দেওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।