প্রায় ২শ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

মাদক কারবারে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে : সিআইডি প্রধান

Abid Rayhan Jaki
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:০৩ অপরাহ্ন, ১৭ এপ্রিল ২০২৪ | আপডেট: ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, ১৭ এপ্রিল ২০২৪
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মাদক কারবারে গডফাদারদের অবৈধভাবে অর্জিত ১৭৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকার সম্পদ জব্দ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মানিলন্ডারিং মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিআইডি ১২২ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব তল্লাশি করে অবৈধ মাদক ব্যবসার সম্পৃক্ততা পায়।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া।

আরও পড়ুন: ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহল প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ: সেনাসদর

তিনি বলেন, সিআইডি এখন পর্যন্ত ৩৫ টি মাদক সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং মামলার তদন্ত করছে। এরমধ্যে ১০ টি মামলার তদন্তর প্রকৃত গডফাদারদের আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে। এমনিকে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মাদকের অর্থে বাড়ি-গাড়ি, জমি ক্রোক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাদক মামলায় ১২২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি, এরমধ্যে এজাহারনামীয় ৬৭ জন। এসব মামলার গডফাদারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিছু মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। ১০ টি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় গডফাদারদের ৯.১৪ একর জমি ও ২ টি বাড়ি যার মূল্য ৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। মাদক সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় ব্যাংকে গচ্ছিত ১ কোটি ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৪২৫ টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। আরও ৩৫.১৭৩ একর জমি, ১২ টি বাড়ি ও একটি গাড়ি যার মূল্য ৩৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা ক্রোকের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, মাদক মামলার তদন্তে সাধারণত সেবনকারী বা বাহক পর্যন্ত তদন্ত করেই চার্জশিট দেওয়া হয়। এর পেছনে গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। কিন্তু গডফাদারদের আরও আগে আইনের আওতায় আনতে পারলে মাদকের এতো ব্যপকতা হতোনা। সিআইডি প্রথম গডফাদারদের গ্রেপ্তার ও তাদের সম্পদ ক্রোকের কাজে হাত দিয়েছে। সিআইডি প্রধান বলেন সরকারের পক্ষ থেকে একটি মেসেজ মাদক ব্যবসায় উপার্জিত অর্থ কোনভাবে আসামিরা ভোগ করতে পারবেনা। যার নামে সম্পদ করুক তদন্তে প্রমাণিত হলে আদালতের মাধ্যমে তা বাজেয়াপ্ত করে সরকারের কোষাগারে যাবে। আর সংশ্লিষ্ট মাদক ব্যবসায়ীরা কারাগারে যাবে। সিআইডি এই বিষয়ে জোরালোভাবে তদন্ত করছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সোমবার স্বাক্ষরিত হবে

সম্পদ ক্রোকের বিষয়ে আমরা আদালতে উপস্থাপন করি, আদালত সন্তুষ্ট হয়ে ক্রোকের নির্দেশ দেন। পরে ক্রোক করে আদালতেই জমা দেওয়া হয়। তারা এতোদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। তারা প্রকৃতপক্ষে পেশাগতভাবে মাদক ব্যবসায়ী মাদক সংশ্লিষ্টতায় সাধারণত প্রথমে বাহক বা সেবনকারীকে ধরা হয়। তারপর তদন্তকারী কর্মকর্তা এর পেছনে কারা আছেন সে পর্যন্ত যেতেন না। সিআইডি ভিন্ন আঙ্গিকে পেছনের ব্যক্তিদের খোঁজ নেওয়া শুরু করে। তারা কোথায় যোগাযোগ করছে, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করা হচ্ছে। সন্দেহজনক লেনদেন পেলে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা মাদক ব্যবসার কথা স্বীকার করছেন।

গডফাদারদের পরিচয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। তারা প্রকৃতপক্ষে পেশাগতভাবে মাদক কারবারি। তাদের আর কোনো পরিচয় নেই।